১০ থাকে ১৬ মার্চ বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, ‘আসুন, একসাথে হাত ধরি গ্লুকোমা মুক্ত পৃথিবী গড়ি’ সচেতনতা তৈরি করতে নানা আয়োজন চলছে।
চোখের জটিল রোগ হলো ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ও গ্লুকোমা। এই রোগের ফলে যে অন্ধত্ব হয় তার কোনো প্রতিকার নেই। একমাত্র সচেতন হয়ে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ও গ্লুকোমায় চোখের স্নায়ু আস্তে আস্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চোখের দৃষ্টি কমতে থাকে। এমনকি এক সময় রোগী অন্ধত্ব হয়ে যায়।
মূলত চোখের এ সমস্যার জন্য অভ্যন্তরীণ উচ্চচাপ দায়ী। আমাদের দেশ ও বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো চোখের গ্লুকোমা ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। অনেক ক্ষেত্রে এ রোগের লক্ষণ রোগী বুঝে ওঠার আগেই চোখের স্নায়ু অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
গ্লুকোমা চোখের অনিরাময়যোগ্য অন্ধত্ব তৈরি করে। তাই একবার দৃষ্টি যতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা আর ফিরিয়ে আনা যায় না। চোখের গ্লুকোমা রোগ হলে রোগীকে সারাজীবন চিকিৎসকের ফলোআপে থাকতে হয়।
কারণ : ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ও গ্লুকোমার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া না। চোখের উচ্চচাপই রোগটির প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়। তবে স্বাভাবিক চাপেও এ রোগ হতে পারে। সাধারণত চোখের উচ্চচাপ ক্রমে চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দৃষ্টি ব্যাহত করে। তবে কিছু কিছু রোগের সঙ্গে এ রোগের সম্পর্ক রয়েছে । পরিবারের নিকটাত্মীয় এ রোগ থাকলে। বয়স ৪০-এর বেশি হলে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। মাইগ্রেন। দীর্ঘদিন রাত্রিকালীন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন। চোখের ছানি অপারেশন না করা বা দেরি করা। জন্মগত চোখের ত্রুটি ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে কেবল চোখের উচ্চচাপই ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, যা গ্লুকোমা রোগের প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়।
উপসর্গ : অনেক ক্ষেত্রে রোগী এ রোগের কোনো লক্ষণ অনুধাবন করতে পারেন না। চশমা পরিবর্তনের সময় বা নিয়মিত চোখ পরীক্ষার সময় চিকিৎসক এ রোগে আক্রান্ত এটা বুঝতে পারেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে তা হলো ঘন ঘন চশমার গ্লাস পরিবর্তন; চোখে ঝাপসা দেখা বা আলোর চারপাশে রঙধনুর মতো দেখা। ঘন ঘন মাথাব্যথা বা চোখে ব্যথা। দৃষ্টিশক্তি ক্রমে কমে আসা। অনেক সময় চলতে গিয়ে দরজার পাশে বা অন্য কোনো পথচারীর গায়ে ধাক্কা লাগা ইত্যাদি।
চিকিৎসা : গ্লুকোমা রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, কিন্তু নিরাময় সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো এ রোগের চিকিৎসাও সারা জীবন করে যেতে হবে। এ রোগে দৃষ্টি যতটুকু হ্রাস পায়, তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে দৃষ্টি যাতে আর কমে না যায়; সে জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এ রোগে প্রধানত তিন ধরনের চিকিৎসা রয়েছে, যেমন ওষুধের দ্বারা চিকিৎসা, লেজার চিকিৎসা ও সার্জারি। চিকিৎসক রোগীর চক্ষু পরীক্ষা করে তার চোখের চাপের মাত্রা নির্ণয় করে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করে দেবেন, তা নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।
