সবাই যখন দাম বাড়ান তিনি তখন কমান

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৪, ০১:৪৮ এএম

রোজা এলেই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দাম বাড়িয়ে পণ্য বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়। এর মধ্যে ব্যতিক্রম রাজধানীর বসিলা ব্রিজসংলগ্ন ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ‘শওকত ডেইরি’। এবার অন্য খামারিদের চেয়ে অন্তত ১৫ টাকা কমে এক কেজি দুধ বিক্রি করছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শওকত মাহমুদ। প্রতিদিন কম দামে খাঁটি দুধ কিনতে শহরের নানাপ্রান্ত থেকে সেখানে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ।

গত সোমবার বিকেলে শওকত ডেইরিতে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গেল কয়েক বছর ধরে রোজায় কম দামে দুধ বিক্রি করছেন শওকত মাহমুদ। অন্য খামারে প্রতি লিটার ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখানে এক কেজি দুধ পাওয়া যাচ্ছে ৮৫ টাকায়। তবে জনপ্রতি এক কেজির বেশি দুধ দেওয়া হয় না।

২০০৯-১০ সেশনে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স পাস করেন শওকত মাহমুদ। এরপর অন্য সবার মতো চাকরির পেছনে না ছুটে এ খামার গড়ে তোলেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। শওকত মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রোজা উপলক্ষে কম দামে দুধ বিক্রির উদ্যোগ শুরু করেছি তিন-চার বছর হয়েছে। মূলত খোদার নৈকট্য লাভের আশায় এটি করা। অন্যান্য ব্যবসায়ী লিটারে দুধ বিক্রি করলেও আমি কেজিতে দুধ বিক্রি করি। এতে ক্রেতারা ১০০ গ্রাম বেশি দুধ পান।’

এ উদ্যোক্তা আরও বলেন, ‘যেকোনো ব্যবসায়ী ৯০০ গ্রাম বা এক লিটার দুধের দাম রাখছেন ৯০ থেকে ১০০ টাকা। কিন্তু আমি শর্তসাপেক্ষে ১ হাজার গ্রাম দুধ ৮৫ টাকায় বিক্রি করেছি। গত বছর ৮০ টাকায় বিক্রি

করলেও এবার কেজিতে দাম ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। রোজায় দৈনিক ৪০০ লিটারের বেশি দুধ সেল করতে পারি। সেই হিসাবে গেল কয়েক বছর প্রতি রোজায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছাড় দিয়েছি। শওকত ডেইরি এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক আস্থার প্রতিষ্ঠান।’ শওকত ডেইরির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী বলছেন, রোজায় ব্যবসায়ীরা যেখানে অতিরিক্ত লাভের চিন্তা করেন, সেখানে শওকত মাহমুদ অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

মোহাম্মদপুর টাউন হল থেকে দুধ কিনতে আসা আনিস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রোজা উপলক্ষে দুধের চাহিদা একটু বেশি থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুধের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, দুধের সঙ্গে অতিরিক্ত পানিসহ নানা কেমিক্যাল মেশানোর মতো অভিযোগও রয়েছে। তবে শওকত ডেইরির সততার জন্য দূর থেকে দুধ কিনতে এসেছি। তাছাড়া শওকত ডেইরি রোজায় এক কেজি কেনার শর্তে ৮৫ টাকায় দুধ বিক্রি করছে।’

দুধ কিনতে আসা রিকশাচালক আক্তার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্যান্য জায়গা থেকে দুধ কিনে শান্তি পাওয়া যায় না। প্রতি লিটার ১০০ টাকা কইরা নিলেও ভালো মানের দুধ দেয় না। কিন্তু কয়েক মাস ধরে এখান থেকে দুধ কিনে শান্তি পাচ্ছি। তবে রোজা উপলক্ষে ৮৫ টাকা দরে এক কেজির বেশি দুধ দিচ্ছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত