সৌদি নারী উদ্যোক্তাদের জয়যাত্রা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৪, ০৮:১৪ এএম

নতুন উদ্যোগ (স্টার্টআপ) এবং নারী উদ্যোক্তাদের ছাড়া এখন সৌদি আরবের অর্থনীতি চিন্তাও করা যায় না। অথচ এক দশক আগেও দেশটিতে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য কোনো পরিবেশই বজায় ছিল না এমনটাই মনে করেন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের নারী উদ্যোক্তা মাহা শিরাহ। একদম শুরুর দিকে রিয়াদ শহরভিত্তিক কয়েকজন নারী উদ্যোক্তার একজন তিনি। তার ভাষ্য, একসময় নারীদের ব্যবসা করা ছিল বেশ কঠিন।

মাহা শিরাহ ২০১৪ সালে নারীদের জন্য সৌদি আরবের প্রথম কর্মক্ষেত্র প্রস্তুত করেন। তবে হ্যাঁ, দেশটির বিদ্যমান আইনকানুন এখনো নারীদের জন্য বেশ কঠিনই রয়েছে। নারীরা এখনো কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অনেক শিল্পে কাজ করতে পারেন না। সম্প্রতি সৌদি আরবের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি বিস্তৃত তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে নারীদের কর্মক্ষেত্রের বিবরণ রয়েছে। এখন দেশব্যাপী নারীদের অংশগ্রহণই শুধু বাড়ছে না; বরং নারীদের দ্বারা পরিচালিত শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়ছে।

বিশ^ব্যাংক ‘উইমেন, বিজনেস অ্যান্ড দ্য ল ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, নারীদের মজুরি, ব্যবসা শুরু করতে ও চালাতে নারীদের ওপর আরোপিত বাধা এবং নারীদের পেনশনকে সংকুচিত করতে বিদ্যমান আইনের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব ১০০ সূচক অর্জন করে।’

২০২১-২২ সালের দিকে সৌদি আরবের নারীবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের ৯৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা পেশাকে নারীদের ভালো পেশার তালিকায় রেখেছেন।

সৌদি আরবের বর্তমান তথ্য-উপাত্তগুলো এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে দেশটিতে নারীদের অগ্রসরতার একটি চিহ্ন স্পষ্ট। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং ফেলো টিম ক্যালেন বলেন, ‘২০১৭ থেকে ২০২১ সালের ব্যবধানে সৌদি আরবের কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ১৭ দশমিক ৪ থেকে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা দ্বিগুণের বেশি।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৬ সালে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ‘ভিশন ২০২৩’ শিরোনামে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন, যার প্রভাবে সৌদি সমাজের এই পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। তেলকেন্দ্রিক বাণিজ্য থেকে বের হয়ে এসে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনতেই সৌদি নেতৃত্ব ওই সব উদ্যোগ নেয়। এর ফলে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে।

শিরাহ বলেন, সৌদি আরবে নারী কর্মীরা এখন স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে। এখন যে কেউ স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে উদ্যোক্তা হতে চাইলে নারী-পুরুষনির্বিশেষে তা পারবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্টার্টআপ খাতে সৌদি সরকারেরও সহযোগিতা বাড়ছে। চলতি মার্চ মাসের টেক সাইমিট ‘লিপ২৪’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী সৌদি আরবের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এখন নতুন করে সহযোগিতার পাশাপাশি উদ্যোগের ক্ষেত্রগুলো ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছে।

সৌদি নারী মারিয়াম মোসালি  চলতি বছর ‘সি-সুইট অ্যাডভাইজরি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন, যার লক্ষ্য বিনিয়োগ ও ব্যবসাবিষয়ক পরামর্শক হিসেবে কাজ করা। এই নারী অন্যান্য নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করেন। সৌদি আরবের রক্ষণশীল পোশাক পরিহিত অবস্থায়ই তিনি তার কাজ চালাচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানের বাইরেও কয়েকটি উদ্যোগে তার বিনিয়োগ রয়েছে।

মোসালির পরামর্শে বিলাসবহুল ফ্যাশন রিটেইলিং কোম্পানি ‘সিরিন’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। সৌদি নারী বাসমা বারজাঙ্গি এর উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো অঙ্কুরিত হওয়ার আগমুহূর্তের মতো অবস্থায় রয়েছি এবং আমি বিনিয়োগকারী খুঁজছি। আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সন্দিহান।’ তবে তিনি জানান, উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রাপথের বাধাগুলো আলিঙ্গন করতে তিনি শিক্ষা হিসেবে নিতে চান। ব্যর্থতাকে সামনে সফলতার ভিত্তি মনে করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত