মুসলিম সভ্যতার নিদর্শন বখশী হামিদ মসজিদ

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৪, ১২:৫৮ এএম

বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত মুসলিম সভ্যতার অনন্য নিদর্শন বখশী হামিদ মসজিদ। প্রায় ৪৫৫ বছর আগে ইট, পাথর ও সুরকি দিয়ে নির্মিত হয়েছিল এই মসজিদ। ঐতিহাসিক এই মসজিদটি বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামের একটি দিঘির পাড়ে অবস্থিত। এই মসজিদের নির্মাণ কৌশলের সঙ্গে ঢাকার শায়েস্তা খান মসজিদ এবং নারায়ণগঞ্জের বিবি মরিয়ম মসজিদের বেশ মিল রয়েছে।

যুগপরম্পরায় স্থানীয়দের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে এই মাসজিদটি। পাথরের গাঁথুনিতে বানানো হয়েছে মসজিদের মূল প্রবেশপথ। পাশেই তোরণে রয়েছে ফুলের অভিনব কারুকাজ। মসজিদে স্থাপিত ফলকে আরবিতে একটি লেখা রয়েছে। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়, ‘এই মসজিদ নির্মাণ হয়েছে সেই বাদশাহর যুগে যাকে উপাধি দেওয়া হয়েছে দ্বীন ও মিল্লাতের মহান সম্রাট হিসেবে। আর তিনি হলেন সুলাইমান কররানি। মহান আল্লাহ তাকে বিপদাপদ থেকে মুক্ত রাখুন। তারিখ ৯৭৫ হিজরি সালের ৯ রমজান।’

এই ফলক হতে সুলাইমান কররানি কর্র্তৃক প্রতিষ্ঠা করার কথা স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও প্রাচীনকাল থেকে লোকমুখে বখশী হামিদের নির্মিত মসজিদ বলে পরিচিতি লাভ করে। বখশী হামিদের পুরো নাম মুহাম্মদ আবদুল হামিদ। বখশী তার উপাধি। বখশী ফার্সি শব্দ। এর অর্থ কালেক্টর বা করগ্রহীতা। স্থানীয় প্রবীণ মুরব্বিদের থেকে জানা যায়, তারা বংশপরম্পরায় জেনে আসছেন যে, তৎকালীন বখশী হামিদ এই অঞ্চলের কালেক্টর ছিলেন। তারা বলেন, তৎকালীন এ এলাকায় তেমন জনবসতি ছিল না। গৌড়ের জনৈক আমির শাহ আবদুল করিম এক সুফীর সঙ্গে উপযুক্ত বাসস্থানের সন্ধানে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বাঁশখালীতে অবতরণ করেন। এরপর বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশার দরগাহ বাড়ির স্থানে পৌঁছলে শাহ আবদুল করিম সেখানে বসবাসের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। অতঃপর সেখানেই বসবাস শুরু করেন। বখশী আবদুল হামিদ উক্ত শাহ বংশেরই একজন বলে প্রাচীনকাল থেকে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন কথা প্রচলিত রয়েছে। আর তিনিই এ মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন।

মসজিদের ছাদের গম্বুজগুলোর চূড়া পদ্মফুলের মতো। বড় গম্বুজটির ভেতরে রয়েছে লতাপাতার অলংকরণ। মোঘল স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত এ মসজিদটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট। মাঝেরটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং ছোট গম্বুজ দুটি ধনুকের মতো করে ছাদের সঙ্গে যুক্ত। প্রাচীন এই মসজিদ লাগোয়া পুকুরে রয়েছে শানবাঁধানো ঘাট। এর স্বচ্ছ পরিষ্কার পানি দিয়ে অজু করেন মুসল্লিরা। মসজিদের পূর্ব-উত্তরে গড়ে উঠেছে মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স। এ কমপ্লেক্সের নাম রাখা হয়েছে দারুল কোরআন মুহাম্মদিয়া শাহ আবদুল হামিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানা। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সমবেত হয় এই মসজিদে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত