প্রতিটি মুহূর্ত কল্যাণকর

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৪, ১২:৪৩ এএম

জেনে রাখা ভালো : হিজরি বর্ষের নবম মাস রমজান। এ মাস ইমানদারদের জন্য অনেক বড় নিয়ামত। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্ত কল্যাণকর। এটি দয়াময় আল্লাহর করুণা লাভের সুবর্ণ সুযোগ, তার নৈকট্য লাভের উত্তম সময় এবং পরকালীন পাথেয় অর্জনের উৎকৃষ্ট মৌসুম। তিনি এই মাসের প্রতিটি মুহূর্তে দান করেছেন অশেষ খায়ের ও বরকত। এ মাসটি এত ফজিলতপূর্ণ হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। রমজান মাসের আগমন ঘটে প্রধানত রোজা ও তারাবির বার্তা নিয়ে। এটি রমজান মাসের বিশেষ আমল। তাই প্রত্যেক মুসলমানের এ দুই বিষয়ে যত্নবান হওয়া কর্তব্য।

পবিত্র কোরআন থেকে : ‘আর তোমরা আহার করো ও পান করো যতক্ষণ না তোমাদের জন্য (রাত্রির) কালো রেখা থেকে ফজরের সাদা রেখা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো। আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হয়ো না। এগুলো আল্লাহর (নির্ধারিত) সীমা। সুতরাং এর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহতায়ালা মানুষের জন্য তার আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে। (সুরা বাকারা ১৮৭)

হাদিস থেকে : রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘জান্নাতের একটি দরজা আছে, যেটাকে রাইয়ান বলা হয়। এই দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন একমাত্র রোজাদার ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ এই পথে প্রবেশ করবে না। সেদিন এই বলে আহ্বান করা হবে রোজাদাররা কোথায়? তারা যেন এই পথে প্রবেশ করে। এভাবে সকল রোজাদার ভেতরে প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অতঃপর এ পথে আর কেউ প্রবেশ করবে না। (সহিহ বুখারি ১৮৯৬)

করব : নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায়।

ছাড়ব : চুগলখোরি (ঝগড়া লাগানোর উদ্দেশে একজনের কথা আরেকজনের কাছে লাগানো)।

মাসআলা : অতিরিক্ত গরম বা পিপাসার কারণে যদি গোসলের মাধ্যমে শরীরকে ঠাণ্ডা করা হয়, তাহলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। ফতোয়া হিন্দিয়া ১/২০৩

ভুল ধারণা : সাহরি না খেলে রোজা হয় না, এটা ভুল ধারণা। সাহরি খাওয়া সুন্নত। সাহরি না খেতে পারলেও রোজা হবে।

আমল : নিয়মিত ইসতিগফার করার প্রবল চেষ্টা থাকা। প্রতি নামাজের পর বিশবার করে পড়লে সহজেই দিনে শতবার ইসতিগফার পড়া হয়ে যাবে।

সুসংবাদ : ‘রমজান মাস এলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।’ -সহিহ বুখারি ১৮৯৯

উপকারিতা : রোজা রাখার ফলে লিপিড প্রোফাইলে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টেরলে ভুগছেন এমন রোগীদের রক্তে কোলেস্টেরল দ্রুত কমতে শুরু করে।

দোয়া : সুসন্তান লাভের দোয়া, ‘রাব্বি হাবলি মিল্লাদুনকা যুরিরয়্যাতান ত্বাইয়্যিবাহ, ইন্নাকা সামিউদ দুআ।’ অর্থ হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার পক্ষ থেকে আমাকে পূতপবিত্র সন্তান দান করো। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা কবুলকারী। -সুরা আলে ইমরান ৩৮

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত