মৃত্যুর সময় কালিমা নসিবের আমল

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ১২:০৫ এএম

মেসওয়াক করা রাসুল (সা.)-এর প্রিয় সুন্নাত। যেসব আমলের ক্ষেত্রে রাসুল (সা.) অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছেন, সেসবের মধ্যে মেসওয়াক করা অন্যতম। যুগ পরম্পরায় সমস্ত নবী রাসুল মেসওয়াক ব্যবহার করেছেন। এ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতটি আজ অবহেলিত। নামাজের সময় বা যেকোনো সময় অজুর পূর্বে মেসওয়াক করা সুন্নতে মুয়াক্কাদার অন্তর্ভুক্ত। তবে মেসওয়াক শুধু অজুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যেকোনো অবস্থায় গাছের ডাল বা শেকড় দ্বারা মেসওয়াক করা যায়। মেসওয়াকের মাধ্যমে দাঁতের ময়লা ও মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। সঙ্গে অর্জিত হয় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মেসওয়াক মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়। -(ইবনে মাজাহ ২৮৯) মেসওয়াকের অনেক উপকারিতা বিভিন্ন গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত। নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহারে দাঁত জীবাণুমুক্ত হয়, দাঁতের গোড়া মজবুত হয়, দাঁতের ক্যালসিয়াম পূরণ হয়, পাকস্থলী রোগমুক্ত হয়, মস্তিষ্ক সজীব থাকে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ইবাদাতে বিশেষ এক স্বাদ তৈরি হয়। মেসওয়াক ব্যবহার করে নামাজ পড়লে, মেসওয়াক ব্যবহার না করে নামাজ পড়ার তুলনায় সত্তর গুণ সওয়াব বেশি পওয়া যায়। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মেসওয়াক ব্যবহার করে নামাজ আদায়ের ফজিলত মেসওয়াক ছাড়া নামাজ আদায়ের তুলনায় সত্তর গুণ বেশি।’ -(মুসনাদে আহমাদ  ২৬৩৪০)। ইবনে আবেদ্বীন (রহ.) বলেন, ‘মিসওয়াকের সত্তরটির অধিক উপকারিতা রয়েছে। যার সর্বোচ্চটি হলো মৃত্যুর সময় কালেমা নসিব হওয়া। আর সর্বনিম্নটি হলো মুখের দুর্গন্ধ দূর করা।’ -ফতোয়ায়ে শামি

গাছের ডাল দ্বারা মেসওয়াকের ব্যাপারে চার ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। এক. আরাক তথা পিলু গাছের ডাল। এটা সর্বোত্তম মেসওয়াক। আবু খায়রা সুব্বাহি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা আবদুল কাইসের প্রতিনিধিদলে ছিলাম। অতঃপর রাসুল (সা.) আমাদের আরাক গাছের মেসওয়াক ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়ে বললেন, তোমরা এটা দিয়ে মেসওয়াক করো।’ -তাবারানি ৯২৩

দুই. খেজুর গাছের ডাল। রাসুল (সা.)-এর জীবনের শেষ মুহূর্তে খেজুর গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করেছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাসুলের মুমূর্ষু অবস্থায়) সেখানে এলেন, তার হাতে ছিল খেজুর গাছের তাজা ডাল। অতঃপর রাসুল (সা.) তা দিয়ে মেসওয়াক করলেন।’ -বুখারি ৪৪৫১

তিন. যাইতুনের ডাল। যাইতুনের ডাল হলো পরবর্তী উত্তম মেসওয়াক। সব মাযহাবের ফকিহ এই মেসওয়াক পছন্দ করেছেন। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, বরকতময় গাছসমূহের মধ্যে যাইতুনের ডাল অনেক উত্তম মেসওয়াক। যা মুখ পরিষ্কার করে এবং দাঁতের মাড়ির রোগ বা দাঁতের হলুদ বর্ণ দূর করে।’

চার. প্রত্যেক এমন গাছের ডাল, যা নরম, মোলায়েম, মসৃণ, তিক্ত, ক্ষতিকর নয় এবং যার ঘ্রাণ সুন্দর। -শামি ১/১১৪

মেসওয়াকের গুরুত্ব : মুমূর্ষু অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.) মেসওয়াকের আগ্রহ প্রকাশ করেন। আয়েশা (রা.) বুঝতে পেরে মেসওয়াকের ব্যবস্থা করেন। তিনি বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) একটি মেসওয়াক হাতে নিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে প্রবেশ করলেন। রাসুল (সা.) তার দিকে তাকালেন। আমি তাকে বললাম, হে আবদুর রহমান! মেসওয়াকটি আমাকে দাও। সে তা আমাকে দিল। আমি ব্যবহৃত অংশ ভেঙে ফেললাম এবং তা চিবিয়ে রাসুলকে দিলাম। তিনি আমার বুকে হেলান দেওয়া অবস্থায় তা দিয়ে মেসওয়াক করলেন।’ -সহিহ বুখারি ৮৪৬

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত