রাজধানী ঢাকায় চলাচলকারী লক্কড়ঝক্কড় ও রঙচটা কিছু বাসের ছবি নিয়ে কয়েক দিন ধরেই নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে এসব লক্কড়ঝক্কড় বাস চলাচলের বিষয়ে সরকারের কোনো গাফিলতি নেই বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বারবারই বলা হলেও বাসের চেহারা বদলাচ্ছে না। সরকারের গাফিলতির কী আছে, আমি মন্ত্রী কি নিজে গিয়ে বাস রঙ করব?’
গতকাল বুধবার ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি র্যাম্প (নামার রাস্তা) খুলে দেওয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) সংলগ্ন র্যাম্পটি উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ওবায়দুল কাদের। রাজধানীতে এখনো লক্কড়ঝক্কড় বাস চলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের গাফিলতির কী আছে? আমি মন্ত্রী কি নিজে গিয়ে বাস রঙ করব? এসব গাড়ি আমরা বন্ধ করে দিতে পারি। কিন্তু রিপ্লেস (বিকল্প) তো নেই। বাস যখন বন্ধ করে দেব, তখন সাংবাদিকরাই সবার আগে বিক্ষোভ দেখাবেন। লোকজন দাঁড়িয়ে আছে, হাজার হাজার মানুষ বাস পাচ্ছে না। আমাদের অবস্থা তো শাঁখের করাত। এটা করলেও দোষ, ওটা করলেও দোষ।’
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের তেজগাঁও থেকে এফডিসি গেটসংলগ্ন ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে র্যাম্প উদ্বোধন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটি নগরবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ-উপহার। আগামী বছরের শুরুতে পুরো প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হওয়ার সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। আরও পাঁচটি মেট্রো লাইন বাকি আছে। দুটির কাজ চলমান। এগুলো সম্পন্ন হয়ে গেলে যানজট ধীরে ধীরে কমে যাবে।’
মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের কাওলা থেকে বনানী, ফার্মগেট, কমলাপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত এ প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ১৯.৭৩ কিলোমিটার। র্যাম্পসহ প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৪৬.৭৩ কিলোমিটার। এতে ব্যয় ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৭২.৫১ শতাংশ।
প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত নয়। দিবারাত্রি কাজ চলছে। আমরা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করেছি। বিশ্ব পরিস্থিতিতেও কিছু জটিলতা আছে।’
প্রকল্পটিতে অর্থায়ন নিয়ে কোনো জটিলতা নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফান্ডিংয়ে জটিলতা থাকলে কাজগুলো হচ্ছে কী করে?’
এ সময় বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি ডিসেম্বরের আগেই বিআরটিসির বিশেষায়িত বাস চলে আসবে। ডিসেম্বর থেকে বিআরটি প্রকল্প পুরোপুরি চালু হবে। এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিনুল্লাহ নূরী, সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
