রণাঙ্গনে আরেক ধাক্কার মুখে ইউক্রেন

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৪, ০৩:০০ এএম

রণাঙ্গনে আরও একটি প্রত্যাঘাতের দোরগোড়ায় ইউক্রেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুপিয়ানস্ক শহর দখলে নিলেও পরে সেটি পুনর্দখল করেছিল রুশ সেনারা। কিন্তু গত বছর ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ ব্যর্থ হওয়ার পর রাশিয়ার সেনাদের অগ্রযাত্রা বৃদ্ধি পায়। গোলাবারুদের সংকট এবং পশ্চিমা মিত্রদের ঐক্যের অভাবে সম্মুখসমরে সমস্যার মুখে পড়ে ইউক্রেন। এখন পরিস্থিতি এমন যে, কুপিয়ানস্ক আবারও হারাতে পারে কিয়েভ। 

ইউক্রেনের কুপিয়ানস্ক শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার পরিপ্রেক্ষিতে শহরটি কিয়েভের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। ইউক্রেন আক্রমণের দিনকয়েক পরেই রাশিয়া এই শহর অধিকার করে নেয়। গত সেপ্টেম্বরে ইউক্রেন আবার তা দখল করে।

কুপিয়ানস্ক শহরটি হলো ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ রেল-হাব। শহরে এখন শুধু সামরিক বাহিনী ও তাদের যানবাহন চলাফেরা করছে। মাঠে চাষ হয় না। গ্রামগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। অঞ্চলটির বাস্তব চেহারাই বদলে গেছে। শহরের কয়েক কিলোমিটার দূরেই এখন রাশিয়ার সেনা রয়েছে। তাদের গোলা শহরে এসে পড়ছে। তাদের বিমান মাঝেমধ্যেই এখানে হামলা করছে। শহরটি তাদের মর্টারের রেঞ্জের মধ্যে এসে গেছে। দুই দেশের সেনার মধ্যে এখন এখানে তীব্র লড়াই হচ্ছে।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শহর সাত মাস রাশিয়ার দখলে ছিল। এখন ইউক্রেনের সেনার হাতে উপযুক্ত পরিমাণে গোলাবরুদ নেই। ফলে আবার এই শহর রাশিয়া অধিকার করে নিতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। কুপিয়ানস্কের হাসপাতালের চিকিৎসক তাতিয়ানা। রুশ আক্রমণ তীব্র হওয়ার পর তিনি কাজ থেকে সরে পড়তে যাচ্ছেন। তিনি বলছেন, ‘রুশ বাহিনী যদি এই শহর অধিকার করে নেয়, তাহলে আমি পালাব।’ অবশ্য এর আগেরবার রাশিয়া যখন শহর দখল করেছিল, তখন তিনি সেখানেই ছিলেন। ওই সময় তাতিয়ানা রুশদের সঙ্গে তর্ক করেছিলেন, তাদের নির্দেশ মানতে চাননি। আহত রুশ সেনার চিকিৎসা করতে চাননি। তাই এবার তাকে দেখলেই রাশিয়ার সেনা গুলি করে মারবে বলে তিনি মনে করেন। 

তাতিয়ানা এখনো আশা করছেন, ‘ইউক্রেনের সেনা কুপিয়ানস্ক দখলে রাখতে পারবে। তবে হাসপাতালের অবস্থা এমনিতেই খুব খারাপ। আগে যে কর্মী ছিল, এখন তার পাঁচভাগের একভাগ আছে। দক্ষ কর্মীদের অভাব রয়েছে। সমানে গোলাগুলি চলছে। তাই শহরে যারা আছেন, তারা ভয় পাচ্ছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত