তেরো পেরিয়ে ক্যারিয়ারের চৌদ্দ বসন্তে পা রাখলেন লাক্স তারকা মৌসুমী হামিদ। কিছুদিন আগেই বিয়ে করেছেন। বিবাহিত জীবন ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন ইমরুল নূর
বিয়ের পর জীবনে কতটা পরিবর্তন এসেছে?
আহামরি কিছুই না। আগে যেমন ছিলাম এখনো তেমনই। তবে নতুন এই জীবনটা বেশ উপভোগ করছি। ঘুম থেকে উঠার পর দুজন দুদিকে কাজে বের হয়ে যাচ্ছি, এরপর কাজ শেষ করে আবার একসঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাঝে মাঝে কাজের জন্য ঢাকার বাইরে গেলে কয়েকদিন দেখা হয় না, এরপর কাজ শেষ করে ফেরা আবার একসঙ্গে। এভাবেই চলছে। কখনো ভালো না লাগলে একসঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে যাই। এই যেমন আমার শুট নেই, ওর রাজশাহীতে শুটিং আছে। আমি এখানে চলে এসেছি ঘুরতে।
কাজের ব্যস্ততা আগের চেয়ে বেড়েছে নাকি কমেছে?
দুটোর মাঝামাঝি। কিছু নাটক করেছি, সিনেমা করেছি। নাটকগুলো ঈদে আসবে আর দুটো সিনেমার ডাবিং শেষ করেছি, এগুলো হয়তো বছরের শেষে আসবে। এর মধ্যে আরও নতুন কিছু কাজের কথা চলছে।
সহশিল্পীদের অনেকেই ওটিটিতে ঝুঁকেছেন। ‘গুটি’র পর আর ওয়েবে দেখা যায়নি কেন আপনাকে?
ওটিটি শিল্পী কিংবা নির্মাতাদের জন্য অবশ্যই নতুন একটা দুয়ার খুলেছে। এখানে নিজেদের উপস্থাপন করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে, যেটা অনেক সময় নাটক কিংবা সিনেমাতেও সম্ভব হয় না। ‘গুটি’র পর অনেক কাজের প্রস্তাবই এসেছে কিন্তু সেগুলো আমার পছন্দ হয়নি। আমাদের এখানে একটা বিষয় খুব কমন সেটা হচ্ছে কোনো শিল্পীকে একভাবে দেখার পর সবাই শুধু ওই চরিত্র বা ওইরকম চরিত্রের জন্যই ডাকে। ব্যতিক্রম কিছু করার চিন্তাভাবনা একদমই কম। এগুলো হয়তো নাটকে রিপিট করা যায় কিন্তু ওটিটিতে না। নাটকে তো একই চরিত্র বহুবার হয়, হচ্ছেও। আমার কাছেও একই রকম চরিত্র এসেছে বারবার, যে কারণে আর করা হয়নি। এ রকম আর করতে চাই না। নতুন নতুন চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করতে চাই।
ক্যারিয়ারের এ সময়ে এসে অবস্থান নিয়ে কতটা তৃপ্ত?
আমি যা পেয়েছি, যা করেছি তা নিয়ে তৃপ্ত। আমার কোনো কিছু নিয়ে আফসোস নেই। কখনোই আফসোস করি না। আমি কখনো ক্ষুধা নিয়ে কাজের জন্য দৌড়াইনি। আমার ঝুলিতে যা আছে তা অনেক শিল্পীর ঝুলিতেই নেই। আমি একজন খালিদ মাহমুদ মিঠুর সঙ্গে কাজ করেছি, ফেরদৌস হাসান, সুমন আনোয়ার, শিহাব শাহীন এমন অনেক নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছি। আমার অনেক ভালো ভালো কাজ আছে। শিল্পীদের তৃপ্ত থাকতে হয়, তা নাহলে সারাক্ষণ হা-হুতাশ করতে হয় বা হবে। সবাই তো আর নম্বর ওয়ান হবে না, এটা মেনে নিতে হবে এবং নিজেকে আবারও চেষ্টা করতে হবে। এখন কেউ এক নম্বর না বলে যে তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কিংবা তার ভ্যালু নেই, ব্যাপারটা কিন্তু এ রকম না। কারও কনটেন্টে ভিউ নেই তাই বলে সে শিল্পী না কিংবা তার ভ্যালু নেই এটা তো ঠিক না। ভিউ কখনো একজন শিল্পীর মূল্যায়ন ঠিক করতে পারে না। আর কেউ যদি বলেও তার ভ্যালু নেই তার মানে কি তার কোনো কিছু কমে গেছে? না তো। যদি এ রকমই হতো তাহলে তো ওই এক-দুজন ছাড়া সব শিল্পী সুইসাইড করত।
শিল্পীরা কি তবে অসহায়?
একজন শিল্পীর কষ্ট ভীষণ তীব্র, যেটা সে কারও সঙ্গে শেয়ার করতে পারে না। শিল্পীদের ভালো
থাকতে হয়, ভালো রাখতে হয়। কারণ তাদের মানুষ অনুসরণ করে। নিজের কাজ হোক কিংবা অবস্থান সেটা নিয়েই ভালো থাকতে হয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারলে ভালো না হলে নিজে যে উপায় বেছে নিয়েছ, সেটাতেই তৃপ্ত বা খুশি থাকা উচিত।
