উপজেলা আ. লীগ নেতাকে পেটানোর অভিযোগ জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৪, ০৮:৪৪ পিএম

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনকে তুলে নিয়ে বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সদর উদ্দিনের নিজ বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেন আলমগীর হোসেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খোকসা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার পর খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান আলমগীর হোসেন। 

অভিযোগ, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সদর উদ্দিনের ভাই রহিম চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে তার ভাইয়ের পক্ষে আলমগীরকে কাজ করতে বলেন সদর উদ্দিন খান। এ ছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যান ও খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আক্তারের পক্ষে নির্বাচন করতে নিষেধ করেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শোমসপুর এলাকায় এক ব্যক্তির ধানের চাতালে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে বলে, ‘বড় কাকা (সদর উদ্দিন খান) ডাকছে, যেতে হবে।’ এক পর্যায়ে রহিম খানের ছেলে রবিনসহ চারজন তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে একটি মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসিয়ে তুলে নিয়ে যান। অন্য যুবক তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে আসেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আলমগীর বলেন, এক কিলোমিটার দূরে শোমসপুর গ্রামে সদর উদ্দিন খানের বাড়িতে দোতলার একটি ঘরে তাকে আটকে রাখা হয়। এ সময় লাঠি হাতে সদর উদ্দিন উচ্চ স্বরে তার ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচন করতে হুমকি দেন। 
আমার দলীয় কার্যালয় থেকে সাবেক এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল আক্তারের ছবি নামিয়ে রাখতে বলেন। এ সময় লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি কয়েকটি বাড়ি দেন। এক পর্যায়ে বিছানায় থাকা একটা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেন সদর উদ্দিন খান। এভাবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট চলে যায়। একপর্যায়ে কোরআন শরিফ নিয়ে শপথ করান এবং কাউকে এ বিষয়ে বলতে নিষেধ করেন। এ সময় একটি ফোন এলে দরজা খুলে দেওয়া হয়। তিনি দ্রুত বাইরে এলে রবিন আবার মোটরসাইকেলে চাতালের সামনে রেখে যান। পরে থানা-পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সন্ধ্যায় তিনি নিজে বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ 
করেন।

খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক শাহিনা খানম বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের ডান হাত ও এক পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান বর্তমানে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, নিজে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন। মুখের মধ্যে পিস্তল ঢুকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তার ভাই রহিম খানের পক্ষে উপজেলা নির্বাচন করতে শপথ করিয়েছেন। বিষয়টি কেন্দ্রে জানানো হচ্ছে। সদর উদ্দিন খানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আমার জানা নাই। আমি বাড়িতে ছিলাম না। উপজেলা নির্বাচনের তফসিল হয়েছে। এখন কত কথা শোনা যাবে, তার সব কথা তো সত্যি নয়।’

এ বিষয়ে খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ আননূর যায়েদ বলেন, একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত