গুনাহ না করাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৪, ০৩:১৬ এএম

বিগত জীবনের পাপ-তাপ ধুয়ে-মুছে সাফ করার মোক্ষম সময় হলো রমজান মাস। যার সুসংবাদ স্বয়ং হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসের মধ্যে ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পেছনের সব গোনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ইমানসহ সওয়াবের আশায় রমজানে রোজা পালন করবে, তারও অতীতের সব গুনাহ মাফ করা হবে।’ -সহিহ বোখারি : ১৯০১

কোরআন-হাদিসের আলোকে বলা যায়, শুধু পানাহার ও স্ত্রীসহবাস থেকে বিরত থাকলেই রোজার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হাসিল হবে না; বরং রোজা রাখতে হবে ইমানের সঙ্গে, সওয়াবের আশায় ও খোদাভীতি অর্জনের লক্ষ্যে। উদ্দেশ্য যদি এর ব্যতিক্রম হয়, যদি শুধু লোক দেখানোর জন্য রোজা হয়, তাহলে এই রোজা শুধু উপোস থাকা ছাড়া অন্য কোনো কাজে আসবে না। আর তাকওয়া অর্জনের জন্য আমলের সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটা শর্ত আছে। তা হচ্ছে গুনাহ বর্জন করা। গুনাহ বর্জন করা ছাড়া খোদাভীতি অর্জন অসম্ভব!

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রমজান ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের বিনিময়ে রয়েছে জান্নাত! অথচ কেন জানি রমজান মাসেই মানুষকে রাগতে দেখা যায় বেশি। ক্ষুধার কারণে বলে হয়তো! কিন্তু এটা কি সংযম হলো? রাগ-ক্ষোভ যতটা না সম্পর্ক

নষ্ট করে তার চেয়ে নিজের অন্তরকেই আহত করে বেশি! হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তোমরা রাগান্বিত হয়ো না।’ সহিহ বুখারি : ৫৭৬৫

শুধু রাগ নয়, এ-জাতীয় অন্তরের যত ব্যাধি আছে সব ছাড়তে হবে এ মাসে। সেই সঙ্গে মুমিনকে মানুষের সঙ্গে কথাবার্তায় সুভাষী হতে হবে। মুমিন কাউকে গালমন্দ করবে না। এ নির্দেশটি রোজাদারের জন্য আরও বেশি প্রযোজ্য। রোজাদারের রোজা পূর্ণতা পাওয়ার জন্য এবং তার সওয়াব পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য তাকে অনেক কিছু থেকেই বেঁচে থাকতে হয়। রোজাদারের প্রতি নির্দেশ হলো, কেউ তাকে বকা দিলে, গালমন্দ করলে সে বলবে, ‘তোমার যথোপযুক্ত জবাব দিতে পরলাম না। কারণ আমি রোজাদার মুমিন।’

‘আমি রোজাদার’ এ কথা চিন্তা করে এ মাসে গুনাহ পরিত্যাগ করা অনেক সহজ। একটু চিন্তা করলেই দেখা যায়, অনেকেই বেশিরভাগ সময় গুনাহ করেন কোনো কারণ ছাড়া। শুধু অভ্যাসের কারণে। আর অভ্যস্ততার কারণে সবচেয়ে বেশি যে গুনাহগুলো করতে দেখা যায়, তা হলো জবানের গুনাহ। মিথ্যা, গিবত, কটুবাক্য ইত্যাদির মাধ্যমে। যেমন মিথ্যা বলা। মিথ্যা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সারা দিন রোজা রেখে মিথ্যাচারিতা ও মন্দকাজ ত্যাগ করেনি তার পানাহার পরিত্যাগের কোনোই গুরুত্ব আল্লাহর কাছে নেই। আল্লাহ তায়ালা তার পানাহার ত্যাগ করার কোনোই পরোয়া করেন না।’ সহিহ বুখারি : ১৮০৪

আমাদের আরেকটি মন্দ অভ্যাস হলো পরনিন্দা করা। পরনিন্দা মানে রোজা রেখে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া। কল্পনা করে দেখুন! কত নিকৃষ্ট, ঘৃণ্য একটা কাজ! আল্লাহ মাফ করুন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন কারও গিবত না করে, তোমাদের কেউ কি চায় যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে? তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই করে থাকো।’ সুরা হুজরাত : ১২

তাই এ মাসেই আমাদের সব ধরনের গুনাহের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। গুনাহ বর্জনের মাধ্যমে সুস্থ করে তুলতে হবে অন্তরাত্মাকে। তাহলেই অর্জিত হবে তাকওয়ার গুণ। মনে রাখতে হবে, আমাদের জীবনে যেভাবে গুনাহ অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে, সেভাবে গুনাহ না করাটাকে অভ্যাসে পরিণত করে তুলতে হবে। আর এই অভ্যাসটা করতে হবে এই রমজানেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : ইমাম ও খতিব, দারোগা আমীর উদ্দিন ঘাট মসজিদ, বাবুবাজার, ঢাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত