আসলে কী চায় বিএনপি

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫০ এএম

ভারতের পণ্য বর্জনের আন্দোলনের ডাক না দিলেও সাধারণ মানুষের একাংশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, এটা তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। তবে মানুষের মনোভাবকে ধারণ করে রাজনীতি এগিয়ে নিতে চান তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী ৬৩টি দল সংহতি প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন নেতারা।

গত বুধবার বিএনপির সিনিয়র মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গায়ে থাকা ভারতীয় চাদর ছুড়ে ফেলে ভারতের পণ্য বর্জনের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপির সমালোচনা করছেন। তারা বলছেন, কোনো ইস্যু না পেয়ে বিএনপি ভারতের পণ্য বর্জনের আন্দোলন করছে। বিষয়টিকে পাকিস্তান আমলে ভারত বিরোধিতার সঙ্গে তুলনা করছেন তারা।

বিএনপি নেতাদের দাবি, দেশে ভোটাধিকার হরণ, গণতন্ত্র হত্যা, গুম, খুন ও অবিচারের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দায়ী। আর এই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে ভারত সহযোগিতা করছে বলে খোদ আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা বলছেন। এ কারণে জনগণ মনে করছে তাদের অধিকার বঞ্চিত করা ও নির্যাতনের জন্য ভারত দায়ী। তাই জনগণ তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে ভারতীয় পণ্য বর্জন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র এখন ‘ইন্ডিয়া আউট ক্যাম্পেইনে’ উত্তাল। যেহেতু বিএনপি জনগণের রাজনীতি করে, তাই জনগণের সেন্টিমেন্ট ধারণ করে রাজনীতি এগিয়ে নিতে চায়। এরই অংশ হিসেবে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিএনপি জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি দলীয়ভাবে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দেয়নি। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের এ বিষয়ে কোনো আলোচনা কিংবা সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপি ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে বলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যরা যেভাবে বক্তব্য রাখছেন তা সঠিক নয়।’

ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক বিএনপির কর্মসূচি নয়। এটি জনগণের কর্মসূচি। বিএনপি শুধু জনগণের সেন্টিমেন্টের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।’

গায়ের চাদর ছুড়ে ফেলে ভারতের পণ্য বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শুধু জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দেন লেখক, ব্লগার, ইউটিউবার পিনাকী রায়। এরপর গণ অধিকার পরিষদের দুই অংশ প্রকাশ্য কর্মসূচিতে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ঘোষণা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১২-দলীয় জোট, সমমনা রাজনৈতিক জোট বিএনপির সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো ভারতীয় পণ্য বর্জনের ঘোষণা দেয়।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থানের সমালোচনা করেছিল বিএনপি। এ ছাড়া চীন ও রাশিয়ার অবস্থানের সমালোচনা করেছিল দলটি। বিএনপি বলেছে, নির্বাচন নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থান বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের জনগণ মনে করে গণতন্ত্র হত্যায় আওয়ামী লীগ জড়িত। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের খুন, গুম, নির্যাতন করছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়নি। এরপরও আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এখন খোদ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির মন্ত্রী, এমপিরা বলছেন ক্ষমতা ধরে রাখতে তাদের পাশে ছিল ভারত। এ কারণে দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ভারতের ওপরও ক্ষুব্ধ।’

গত বুধবার ভারতের পণ্য বর্জন শুরুর ঘোষণা দেওয়ার আগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ভারতীয় পণ্য বর্জনের চলমান আন্দোলন যৌক্তিক মনে করি। বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক ৬৩টি দল এবং দেশপ্রেমিক জনগণ ভারতীয় পণ্য বর্জনের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করছে। ভারতীয় পণ্য বর্জন মানে আওয়ামী লীগ সরকারকে বর্জন। কারণ, আওয়ামী লীগ একটি ভারতীয় পণ্য।’

এরপর কার্যালয়ের নিচতলায় নিজের গায়ে থাকা ভারতীয় চাদর জনসম্মুখে ছুড়ে ফেলে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রিজভী। এ সময় তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্রই এখন “ইন্ডিয়া আউট ক্যাম্পেইনে” উত্তাল। ভারতীয় পণ্য বর্জন করে জনগণ প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় পণ্য বর্জনের যে ঢেউ দৃশ্যমান, তাতে মনে হয় দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী ভারতীয় পণ্য বর্জনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে।’

এদিকে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ১২-দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা জানিয়েছেন, ‘ভারতীয় আগ্রাসন ও ভারতীয় পণ্য বর্জন’ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। এ সময় নেতারা রিজভী ও বিএনপির অন্য নেতাদের ভারতীয় পণ্য বর্জনের টি-শার্ট হাতে তুলে দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত