ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ক্রেতা আকর্ষণে নিত্যনতুন নকশার পোশাক এনেছে রাজধানীর ফ্যাশন হাউজগুলো। এর মধ্যে সুপরিচিত ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রিন্সের শোরুমে একেকটি পাঞ্জাবির দাম শুরু হয়েছে ৪ হাজার ৯০০ টাকা থেকে। আর এ ব্র্যান্ডটির একেকটি পাঞ্জাবি সর্বোচ্চ লাখ টাকায়ও বিকিয়েছে একসময়। অন্যদিকে এর বিপরীত চিত্র আরেক জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড নবীন ফ্যাশনের শোরুমে। সেখানে সর্বনিম্ন ৩০০ টাকায় শুরু হয়ে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকায় মিলছে বাহারি নকশার পাঞ্জাবি। রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে গা ঘেঁষে রয়েছে এই দুটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের শোরুম। সেখানে দামের যেমন বৈপরীত্য, তেমনি ক্রেতা সমাগমেও দেখা যায় বিপরীত চিত্র। দামি পাঞ্জাবির দোকান প্রিন্সে ক্রেতার হাহাকার, আর স্বল্প দামের দোকান নবীনে উপচেপড়া ভিড়। গতকাল শনিবার সেখানে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
বিশাল সেন্টারসহ রাজধানীর অন্যান্য বিপণিবিতানে এরই মধ্যে ঈদ সামনে রেখে শুরু হয়েছে পাঞ্জাবির বেচাকেনা। ক্রেতা আকর্ষণে ফ্যাশন হাউজগুলো নিত্যনতুন নকশার পাঞ্জাবির সংগ্রহ গড়ে তুলেছে। গতকাল বিশাল সেন্টারে প্রিন্সের শোরুমে আধা ঘণ্টা অবস্থান করে এ সময়ের মধ্যে মাত্র একজন ক্রেতা আসতে দেখা যায়। কিন্তু তার ঠিক পাশের দোকান নবীন ফ্যাশনে ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। প্রিন্সে ক্রেতাদের জন্য বিক্রয়কর্মীরা অপেক্ষায় থাকলেও নবীন ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মীদের যেন শ্বাস ফেলার সময় ছিল না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯২ সালে যাত্রা শুরু করা প্রিন্সের শোরুমের বেশ কদর উচ্চবিত্তের লোকজনের কাছে। এই দোকানে লাখ টাকা দামের পাঞ্জাবিও পাওয়া যেত। বর্তমানে ৪ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে শুরু করে ৩৭ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবিও মিলছে। বিত্তবানদের প্রিন্সের পাঞ্জাবির বেশ কদর রয়েছে। রাজধানীতে এই ব্র্যান্ডটির চারটি শাখা রয়েছে। তবে বিশাল সেন্টারের শোরুমটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
অন্যদিকে নবীন ফ্যাশনের যাত্রা শুরু ১৯৮৮ সালে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ১১টি স্থানে তাদের শাখা রয়েছে। অন্য ফ্যাশন হাউজগুলো থেকে দাম কম হওয়ায় সব শ্রেণির ক্রেতার কাছে তাদের পাঞ্জাবির কদরও বেশ। ৩০০ টাকা দিয়ে শুরু করে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত দামের পাঞ্জাবি আছে তাদের সংগ্রহে। সম্প্রতি তারা বিশাল সেন্টারের নতুন আউটলেটটি চালু করে। মাত্র কয়েক মাস যেতে না যেতেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তাদের এ শাখাটিও।
প্রিন্সে পাঞ্জাবি কিনতে আসা শাখাওয়াত নামে এক ক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই দোকানের পাঞ্জাবি অনেক বছর ধরে পরা হয়। তাদের কালেকশনগুলো বেশ ভালো লাগে। যদিও দাম অন্য জায়গার থেকে বেশি। তবে ঈদে এই দোকান থেকেই পাঞ্জাবি কেনা হয়।’
অন্যদিকে নবীন ফ্যাশনে কেনাকাটা করতে আসা মো. শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নবীন ফ্যাশনের আরও অনেক শাখা আছে। মগবাজারের এ শাখাটি কিছুদিন আগে চালু হয়েছে। তাদের পাঞ্জাবির দাম অন্য ফ্যাশন হাউজ থেকে অনেক কম। আমি ২ হাজার টাকার মধ্যে ৩টি পাঞ্জাবি কিনেছি। অন্য দোকানে এই দামে তা কেনা কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।’
বেচাকেনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রিন্স ডিপার্টমেন্ট স্টোর লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন সোলাইমান বলেন, ‘আমাদের পাঞ্জাবি হলো কিছু শ্রেণির ক্রেতার জন্য। অভিজাত আর রুচিশীল যারা আছেন, তারা আমাদের পাঞ্জাবি কেনেন। তবে এবার সব জায়গায় বেচাকেনা কম। আর আমদানি জটিলতায় পণ্যের দাম আগের থেকে বাড়তি। তবে সামনে বেচাকেনা বাড়বে।’
অন্যদিকে নবীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও আমাদের পাঞ্জাবির দাম বাড়বে না। আগের দামেই আমাদের পাঞ্জাবি বেচাকেনা হচ্ছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি এবং ইসলামিক চিন্তাভাবনা থেকে এবং বাবার ব্যবসায়িক ইতিহাস ধরে রাখতে সামান্য লাভে এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বাড়তি। যেখানে একটি পাঞ্জাবি বানানোর মজুরি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার ওপরে সেখানে নবীন ফ্যাশন থেকে ৩০০ টাকা দিয়েই সুন্দর একটি পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। আমাদের ভিশন ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সবাইকে নবীনের পাঞ্জাবি পরানো।’
