ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সকালে যে দুধ ৭৫-৮০ টাকা লিটারে বিক্রি হয় সেটাই দুপুরের পর থেকে ইফতার কিংবা তারাবির নামাজের পূর্ব পর্যন্ত ১০০ থেকে ১১০ টাকা লিটারে কিনতে হয় ক্রেতাদের। কখনো কখনো দুধের লিটার ১২০ টাকা দরেও বিক্রি হয়ে থাকে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি লিটার দুধের দাম বেড়ে যায় প্রায় ৪০ টাকা।
প্রথম রমজান থেকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এভাবেই বিক্রি হচ্ছে দুধ। এদিকে গ্রাম কিংবা শহরের বাড়িতে যারা মাসিক বা সাপ্তাহিক চুক্তিতে দুধ দিতেন তাদের অনেকেই অধিক লাভের আশায় গ্রাহকদের দুধ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
গতকাল রবিবার ও আজ সোমবার দুদিন ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারসহ কয়েকটি বাজারের দুধ বিক্রির হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছে, সকালের চেয়ে বিকেলে দুধের চাহিদা থাকায় দামও বেশি।
দুধ বিক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, ‘সকালে যারা কম দামে দুধ বিক্রি করছেন তারা সদ্যজাত ভূমিষ্ঠ বাছুরের গাভির দুধ বিক্রি করেন।
চরশিহারী গ্রামের দুধ বিক্রেতা মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘দুধের দাম কখন কমে-বাড়ে বলা মুশকিল। সকালে দুধের চাহিদা কম থাকায় দাম কম থাকে, বিকেলে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেশি থাকে। এছাড়া গো খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেশি থাকায় দাম বেড়েছে।’
কাকনহাটি গ্রামেরে আব্দুল জব্বার নামে এক দুধের ক্রেতা বলেন, সকালে ৮০ টাকা লিটার দরে ৫ কেজি দুধ কিনেছি।
বিকেলে দুধ কিনতে আসা এনামুল ও রিপনসহ কয়েকজন ক্রেতারা জানান, ‘দুধ দিয়া চাইরড্যা ভাত খাইয়্যা যে মানুষ রোজা রাখবো এহন এই বাও আর নাই। ১০০ টেহার ওপরে দুধের লিটার। আগে যারা দুধ রোজিনা দিত তারাও এহন বেশি দামে বেচার আশায় দুধ দেয় না। বাজার থেকে দুধ কিনতে গেলে ভালো দুধ পাওয়াটাই ভাগ্যের ব্যাপার।’
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানেটারী ইন্সপেক্টর (নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক) বেদেনা আক্তার জানান, ‘দুধের মান পরীক্ষার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, ‘রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে বাজার মনিটরিং কমিটি তদারকি করছে। তারপরও সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
