পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রিতে প্রথম দিনের চেয়ে গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনে টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলে চলাচল করা আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর পর প্রথম ১৫ মিনিটেই বেশিরভাগ টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এ ছাড়া দুপুর থেকে শুরু হওয়া পূর্বাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে আগের দিনের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে টিকিট। তবে পূর্বাঞ্চলের চেয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিটের চাহিদা তুলনামূলক বেশি ছিল।
যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে এবং টিকিটের কালোবাজারি বন্ধে গতবারের মতো এবারও ঈদের শতভাগ টিকিট বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো এবার অনলাইনে টিকিট কেনার সময় যাত্রীর ফোন নম্বরে ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) আসছে। ওটিপি ইনপুট দেওয়ার পরই কেবল মিলছে টিকিট।
অন্যদিকে টিকিটবিহীন যাত্রী ঠেকাতে গতবারের মতো এবারও চারটি স্টেশনে বাঁশ বেঁধে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশের অস্থায়ী পথ তৈরি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগ।
গতকাল দ্বিতীয় দিনে বিক্রি করা হয় ৪ এপ্রিলের ঈদযাত্রার টিকিট। প্রথম দিন গত রবিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ১৯ হাজার ১১৬টি টিকিট বিক্রি হয়। এরপরও ১২ হাজারের বেশি টিকিট অবিক্রিত ছিল। এর বেশির ভাগই পূর্বাঞ্চলের। তবে গতকাল দেখা গেছে অন্যচিত্র।
সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চল ট্রেনের জন্য টিকিট বিক্রি শুরুর পর সকাল সোয়া ৮টার মধ্যে ৯ হাজার ৬০৪টি টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। সকাল ১১টা পর্যন্ত ১৪ হাজারেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়। ঢাকা থেকে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল তথা রাজশাহী, খুলনা এবং রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলাগামী ট্রেনে আসন রয়েছে ১৫ হাজার ১৫৫। প্রায় সব টিকিটই বিক্রি হয়ে যায় দুপুর ২টার মধ্যে। টিকিট কাটার জন্য মানুষ সকাল থেকে ৬৪ লাখ বার রেলের ওয়েবসাইটে চেষ্টা চালান (হিট)।
দুপুর ২টা থেকে রেলের পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আসন্ন ঈদে এই অঞ্চলের জন্য দিনে টিকিট বরাদ্দের সংখ্যা ১৬ হাজার ২২টি।
আগাম টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেও পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বেশি বিক্রি হয়েছে। এ দিন সারা দিনে টিকিটের জন্য মানুষ তিন কোটি বারের বেশি ওয়েবসাইটে ঢু মারেন।
ঢাকার কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার দেশ রূপান্তরকে জানান, দুপুর ২টার মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলগামী বিভিন্ন ট্রেনের প্রায় সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরুর পর বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার পাওয়া যাবে ৫ এপ্রিলের টিকিট, ২৭ মার্চ ৬ এপ্রিলের টিকিট, ২৮ মার্চ ৭ এপ্রিলের টিকিট, ২৯ মার্চ ৮ এপ্রিলের টিকিট এবং ৩০ মার্চ ৯ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি হবে। আর ফিরতি টিকিট বিক্রি আগামী ৩ এপ্রিল শুরু হয়ে চলবে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এ ছাড়া ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি হবে ঈদের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে। ঈদে অগ্রিম ও ফেরত যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা হবে না।
বাঁশ থেরাপি : টিকিটধারী যাত্রীদের নিরাপদে, নির্বিঘেœ স্টেশনে প্রবেশ এবং টিকিটবিহীন যাত্রীরা যেন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে না পারেন সেজন্য এবারও ঢাকার কমলাপুর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন, বিমানবন্দর স্টেশন ও গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশনে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী পথ তৈরি করা হচ্ছে।
কমলাপুর স্টেশনে বাঁশ দিয়ে ঘেরা পাঁচটি অস্থায়ী পথের মধ্যে প্রথম পথটি গিয়ে মিলেছে কাউন্টারের সামনে। যাত্রার দিনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেনা যাবে এই পথ ধরে। তার পরের তিনটি পথ দিয়ে মূলত যাত্রীদের প্রবেশ করতে হবে স্টেশন অংশে। এসব পথের মুখেই চেক করা হবে যাত্রী ও সহযাত্রীদের টিকিট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। আর পঞ্চম পথটি তৈরি করা হয়েছে, যেসব যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে ঢাকায় প্রবেশ করবেন তাদের জন্য।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবেশ পথে তিন জায়গায় চেকিং করা হবে। টিকিট ছাড়া কাউকে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বরাবরের মতো এইবারও রেলওয়ের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে দ্বিতীয় চেকিংয়ের মুখে।
তবে গতবারের মতো এবারও শেষ দিকে এই উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে বলে মনে করছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। এজন্য তারা রেলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন।
