দয়াময় আল্লাহর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ার উপায়

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৪, ০২:১৩ এএম

পরিভাষায় আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা বলতে বোঝায়, আত্মীয়ের অবস্থা অনুযায়ী তার প্রতি অনুগ্রহ করা। সেটা কখনো অর্থ-সম্পদ প্রদানের মাধ্যমে, কখনো সেবার মাধ্যমে, কখনো দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে আবার কখনো সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে কিংবা হাসি-মুখে কথা বলার মাধ্যমে হয়ে থাকে। কল্যাণকর কোনো উপদেশদানের মাধ্যমেও আত্মীয়তা রক্ষা করা যায়। এমনকি কোনো আত্মীয় যদি নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হন, তখন তার পক্ষ নেওয়ার মাধ্যমেও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা হয়। ছাড় দেওয়ার মাধ্যমেও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা হয়। মোটকথা, ব্যক্তির সামর্থ্য, প্রয়োজন ও কল্যাণের বিবেচনা করে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার অনেক দিক ও পদ্ধতি রয়েছে। সাধারণত রক্ত, বংশ কিংবা বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। অনেক সময় বন্ধুত্ব থেকেও আত্মীয়তার মতো সম্পর্ক তৈরি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আত্মীয়তার সম্পর্ক থেকেও গভীর হয়। ইসলামের বিধান অনুযায়ী আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যাবশ্যক।

আল্লাহতায়ালা আত্মীয়স্বজনের অধিকারের ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন, ‘হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে। আর তিনি তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অন্যের কাছে চাও। তোমরা সতর্ক থাকো রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়দের ব্যাপারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের পর্যবেক্ষক।’ (সুরা নিসা : ১)

আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা ইমানের দাবি। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখে।’ (সহিহ বোখারি : ৬১৩৮)

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখলে দুনিয়াতেই এর সুফল পাওয়া যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার রিজিক প্রশস্ত ও আয়ু বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (সহিহ বোখারি : ৫৫৫৯)

আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে করণীয় হলো, তাদের নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা, তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা, তারা অর্থকষ্টে থাকলে যথাসাধ্য সহায়তা করা। মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করা, তাদের মাধ্যমে কষ্ট পেলে সহ্য করা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ না ঘটানো, সর্বোপরি তাদের সঙ্গে সালাম-কালাম, হাদিয়া-উপঢৌকন আদান-প্রদান অব্যাহত রাখা। রমজান আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করার বিশেষ সুযোগ তৈরি করে। তাই আমাদের উচিত, এ মাসে আত্মীয়স্বজনের হক আদায়ে সচেষ্ট হওয়া।

ইসলামি স্কলাররা বলেন, রমজানে আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নিন, তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। আপনজনকে ভালোবাসুন, আত্মীয় গরিব হলেও তাকে সম্মান করুন, আত্মীয়দের ভুলগুলো ক্ষমা করুন। রহমত ও মাগফিরাতের মাসে দয়া ও ক্ষমার অনুশীলন করুন। ক্রোধ ও প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া শয়তানি বৈশিষ্ট্য, নাজাতের মাসে এর থেকে মুক্তি লাভে সচেষ্ট হোন। বান্দার সঙ্গে সুসম্পর্ক করুন, আল্লাহর সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে তোমার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে, তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ো; যে তোমার প্রতি অবিচার করে, তাকে ক্ষমা করো।’ (সহিহ মুসলিম)

আপনজন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মনোমালিন্য হতে পারে। কিন্তু এটা দীর্ঘদিন ধরে রাখা যাবে না। কোনো মুমিন-মুসলমানের সঙ্গে তিন দিনের অধিক রাগ করে কথাবার্তা বন্ধ রাখা বৈধ নয়। যদি কারও সঙ্গে কোনো লেনদেন বা দেনা-পাওনা থাকে, তা শরিয়তসম্মতভাবে ও আইনি উপায়ে আদায়ের চেষ্টা করুন। স্বাভাবিক সম্পর্ক বহাল রাখুন, প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। দুনিয়াতে না পেলে আখিরাতে অবশ্যই পাবেন; থাক না পরকালের জন্য কিছু বাড়তি সঞ্চয়। বিশ্বাসী মুমিন-মুসলমানের কোনো কিছুই বৃথা নয়।

লেখক : ইমাম ও খতিব, দারোগা আমীর উদ্দিন ঘাট মসজিদ, বাবুবাজার, ঢাকা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত