দেশের প্রথম ইউটিউব বেইজড মিউজিশিয়ান জেফার রহমান। আসছে ঈদে অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই তারকার। মুক্তি পাবে তার অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ‘লাস্ট ডিফেন্ডার অব মনোগামী’। গান, অভিনয় এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর।
মিউজিশিয়ান পরিচয়ের বাইরে এবার অভিনেত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। কেমন লাগছে এবং এই প্রজেক্টটির সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?
ইন্টারেস্টিং কিছু করতে বরাবরই আমার কাছে ভালো লাগে। এখন দর্শকরা কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটার অপেক্ষায় আছি। আর এই প্রজেক্টের সঙ্গে একদম হুট করেই যুক্ত হওয়া। ফারুকী ভাইয়ার (মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) একটা প্রজেক্টে গান রেকর্ডিং করতে গিয়েছিলাম। গান রেকর্ডিং করতে গিয়ে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছি। তখন উনি বিস্তারিত জানালেন এবং বললেন, আমাকে দিয়ে তিনি অভিনয় করাতে চান। আমি একটু অবাকই হয়েছিলাম। তখন উনার কাছে জানতে চাইলাম, এটা কি আমাকে আজ দেখে আপনার মনে হলো! তখন তিনি জানান যে, এটা নিয়ে দুই মাস ধরে ভাবার পর আমাকে বলেছেন। সবকিছু শোনার পর আমার মনে হলো, করা যেতে পারে। আর এটা যেহেতু ফারুকী ভাই, উনাকে ফেরানো আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। রাজি হয়ে গেলাম।
‘মনোগামী’র ফার্স্ট লুক আসার পর আপনার ছবি সোশ্যালে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। যার মূল কারণ আপনার চুলের স্টাইল (খোলা চুল)। চুলের স্টাইল পরিবর্তন করা নিয়ে আপনার কোনো আপত্তি ছিল না?
পরিচালক যখন আমাকে বললেন যে এই কাজটির জন্য আমার হেয়ার স্টাইল পরিবর্তন করতে হবে, সুতি শাড়ি পরতে হবে, স্যান্ডেল পরতে হবে তখন আমি অনেকটা অবাক হয়েছি। কারণ আমি কখনোই চুল খুলি না, আর শাড়ি পরা হয় না আমার। একটু দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম কিন্তু পরে ভাবলাম যেহেতু একটা দারুণ টিম পেয়েছি এবং আমি নতুন কিছু করতে পছন্দ করি, সবকিছু মিলিয়ে ভাবলাম দেখি কী হয়। তবে হেয়ার স্টাইলটা নিয়ে একটু চিন্তিত ছিলাম যে আমার শ্রোতা-দর্শকরা কীভাবে গ্রহণ করে! পরে দেখলাম, এই লুক নিয়ে একটা হইচই ব্যাপার, সবার অনেক অনেক প্রশংসা। সেটা দেখার পর অনেক বেশি ভালো লেগেছে, বুঝলাম সবার পছন্দ হয়েছে সেটা। এই প্রজেক্ট করার আগে আমি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রথমবার চুল খুলে, শাড়ি পরে গিয়েছিলাম। সেটা নিয়েও বেশ ইতিবাচক মন্তব্য পেয়েছিলাম তবে ‘মনোগামী’র ফার্স্ট লুক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছি। সেটা তো ভাইরালই হয়ে গেল।
এখন থেকে আপনাকে কি নিয়মিত অভিনয়ে পাওয়া যাবে?
আমি মূলত গানের মানুষ। গানটাই আমার কাছে সবকিছু। সারাক্ষণ গান নিয়েই থাকি। আর যদি অভিনয় করি তাহলে সেটা হবে শখের বসে। গানই মূল প্রায়োরিটি, অভিনয়টা শখ বলতে পারেন। ইন্টারেস্টিং কিছু হলে অবশ্যই অভিনয় করতে চাই। তবে সেটা গানের পাশাপাশি, গান ছেড়ে নয়।
অভিনয়ের প্রস্তাব কিন্তু আমি আরও অনেক আগে থেকেই পেয়ে এসেছি। কিন্তু তখন কনফিউজড ছিলাম। এর মূল কারণ ছিল, আমি তো মূলত মিউজিশিয়ান। যদি অভিনয় করি তখন অডিয়েন্সরা আমাকে নিয়ে কনফিউজড হয়ে যাবে যে, আমি মিউজিশিয়ান নাকি অভিনেত্রী! এই কনফিউশনটা তৈরি করতে চাইনি তখন। এখন তো আমি একজন প্রতিষ্ঠিত মিউজিশিয়ান, সবাই আমাকে মিউজিশিয়ান হিসেবে চেনেন। এই সময়ে এসে অভিনয় করলে অডিয়েন্সরা আর কনফিউজড হবে না। তাই একদম সঠিক সময়ে এসে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। ‘মনোগামী’ কাজটি করতে চমৎকার অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং কাজটির পর এখন অভিনয়ের প্রতি সাহস কিংবা ইচ্ছে, দুটোই খানিক বেড়েছে।
আরেকটা বিষয় হচ্ছে, সবাই জানে আমি মিউজিশিয়ান মানে শুধু গান গাই। কিন্তু আমি যে নিজেই গান লিখি, নিজেই সুর করি এটা শ্রোতা-দর্শকদের অনেকেই জানে না। আমার সবগুলো গান আমার নিজের লেখা, সুর করা।
সিনেমায় (বড় পর্দায়) কবে দেখা যাবে আপনাকে?
যেই কাজটা করেছি সেটাও তো সিনেমা-ই, প্রায় দুই ঘণ্টার। আমার কাছে ভালো গল্প, ভালো টিমটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেহেতু একটা সিনেমার (ন ডরাই) একজন প্রযোজক ছিলাম তাই একটা কাজের পেছনে কী হয় বা থাকে, সেটা সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। তাই ভালো টিম এবং ইন্টারেস্টিং কিছু পেলে অবশ্যই বড় পর্দায় কাজ করব।
আসন্ন ঈদে ওয়েব ফিল্ম ছাড়া নতুন কোনো গানে পাওয়া যাবে কি?
বেশ কিছু গান একদম রেডি আছে। সেগুলো একটা একটা করে ছাড়ব। তবে ঈদের পর পর একটা নতুন গান আসবে। আর ঈদে শুধু ওয়েব ফিল্মটাই আসবে।
