জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সাবেক মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আস সামছ জগলুল হোসেন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহিনুর ইসলামের মাধ্যমে গতকাল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মান্নানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
গত ৭ মার্চ এ মামলায় মেজর (অব.) মান্নানের স্ত্রী বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসি) চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম মান্নান ও মেয়ে ওই কোম্পানির পরিচালক তাজরিনা মান্নান আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তবে ওইদিন মান্নানের ভাই বিআইএফসির পরিচালক রইস উদ্দিন আহমেদ, এ এন এম জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক পরিচালক আরশাদ উল্লাহ, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনসুর রহমান ও সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব বিজনেস, সৈয়দ ফকরে ফয়সালের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।
চলতি বছর ২৬ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মো. আব্দুল মাজেদ সংস্থার ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলা করেন। এ মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হলেন বিআইএফসির পরিচালক আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, সাবেক পরিচালক মেজর মান্নানের মেয়ে তানজিলা মান্নান, বিআইএফসির সাবেক এভিপি অ্যান্ড ইউনিট হেড আহমেদ করিম চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র অফিসার (বিজনেস) মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, সাবেক সিনিয়র অফিসার ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে, প্রতারণামূলকভাবে লাভবান হতে রইস উদ্দিনের নামে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সনেট অনলাইনের নামে চারটি পৃথক ঋণ চুক্তি করেন। পরে এর মাধ্যমে ২৭ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করে ২৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বিতরণ করেন। এই ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করে ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ৭২ হাজার ৩৮২ টাকা আত্মসাৎ করেন। ঋণের বর্তমান সুদ হিসাবে পাওনা ৮ কোটি ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৫ টাকা এবং সুদাসলে পাওনা ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ ৩১ হাজার ৪৭ টাকা।
