আলো ছড়াচ্ছে ‘আলোকিত মানুষ’

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০১:১৭ এএম

আমি এখন অ আ ই ঈ আর ১ ২ ৩ পড়তে পারি। আপু-ভাইয়া আমাকে নাম লেখাও শিখিয়েছে। তা ছাড়া বড়দের দেখলে সালাম দিতে হয়, সম্মান করতে হয়, সবসময় সত্য কথা কইতে হয় সবকিছু এখন আমি জানি। এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করছিল ছোট্ট শিশু নাফিসা। শুধু নাফিসা নয়, সুমন, রাসেল, সাথীর মতো প্রায় অর্ধশত সুবিধাবঞ্চিত শিশুর একই অনুভূতি। কেউ কেউ স্কুলে যায় কেউবা আবার যায় না।

দরিদ্রতার কশাঘাতে জর্জরিত সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ‘আলোকিত মানুষ’ নামে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বস্তিতে থাকা শিশু, হলের ডাইনিং-ক্যান্টিনে কাজ করা ও বিশ্ববিদ্যালয়টির তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের পাঠদান করে যাচ্ছে তারা। এসব শিশুর মাঝে দেওয়া হয় শিক্ষা উপকরণও। এ ছাড়াও ইফতার, ঈদসামগ্রী বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, দুস্থদের চিকিৎসা খরচ প্রদানসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম চালাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ শিক্ষার্থী। এভাবেই সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে আলো ছড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

শীতবস্ত্র বিতরণ

ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন ১২টা, মাঘের শীতে কাঁপছে ছিন্নমূল মানুষ। রাস্তায় রাস্তায় সাইকেলে ঘুরছে একদল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। সঙ্গে কম্বল। বেশ কয়েকটি ধাপে শীতবস্ত্র বিতরণের এই কাজটি করে সংগঠনটি। প্রথমে ক্যা¤পাস ও বিভিন্ন বস্তিতে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, পরে সাইকেল নিয়ে ঢাকা শহরের অলিগলিতে, পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শীতপ্রধান জেলাগুলোতে শীতবস্ত্র পৌঁছানো। এ যেন তাদের কাছে উষ্ণতা বিতরণ উৎসব। 

ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ

যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়, ঈদ যেন তাদের জন্য বিলাসিতা। প্রতিবছর এমন অসহায় মানুষের জন্য রমজান এলেই ব্যস্ততা বাড়ে সংগঠনটির। ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমকে সামনে রেখে কাজ করে যায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য। তাদের সঙ্গে ইফতার করা ও ঈদের খুশি ভাগাভাগি করতে পারাতেই যেন তাদের স্বর্গের আনন্দ।

শিশু দিবসে খাবার ও পোশাক বিতরণ

কারও বাবা নেই, কারও মা, কারও আবার সব থেকেও যেন কিছুই নেই। এমন অবলা নিষ্পাপ মায়াবী শিশুর মুখে হাসি ফোটায় সংগঠনটি। ১৭ মার্চ এলেই সংগঠনের সদস্যরা শিশুদের সঙ্গে কাটায় জীবনের সেরা একটি দিন। হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন পোশাক আর মজার মজার খাবার। খেলাধুলা আর হৈ-হুল্লোড় কিছু মুহূর্ত।

অসহায়-দুস্থদের সাহায্য

রাস্তার পাশে অবহেলায় অযত্নে পড়ে থাকা বৃদ্ধ কিংবা অসহায় মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় সংগঠনের সদস্যরা। হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে সেবা-শুশ্রুষা, ওষুধের ব্যবস্থা করে তারা। প্রয়োজনে কোনো বৃদ্ধাশ্রম কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে পুনর্বাসিত করা হয় তাদের।

মানবিক এ কার্যক্রমের বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি কাজী নাফিজ সোয়াদ বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আমার মাথায় একটাই জিনিস ঘোরে, তাদের (সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের) মুখে হাসি ফোটাতে হবে। সবার সহযোগিতায় এর পরিধি আগের থেকে বেড়েছে। সবাই আমাদের সহযোগিতা দিচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটিকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের আর্থিক অনুদান ও দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শে সংগঠনের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সামনের দিনগুলোতে বড় পরিসরে আমরা আমাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারব আশা করি।

লেখক : শিক্ষার্থী, এগ্রিকালচার এক্সটেনশন ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত