ঢাবি পুরাতাত্ত্বিক পরিবারে নতুন সদস্য বিবি মরিয়ম

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০১:১৮ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব কম নয়। একশ বছর বয়স যে বিশ্ববিদ্যালয়ের, সে বিশ^বিদ্যালয় অনেক কিছুর সাক্ষী। নিজেই একটি পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন, তেমনি এর বিভিন্ন স্থাপনা ও ভাস্কর্যও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। সম্প্রতি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরেকটি নাম ‘বিবি মরিয়ম’। নাম শুনলে মনে হতে পারে এটি হয়তো কোনো মানুষের নাম, কিন্তু বিবি মরিয়ম আসলে একটি কামানের নাম, যার বয়স ৩৫০ বছরেরও বেশি। কামানটির দৈর্ঘ্য ১১ ফুট। ওজন সাত টন। এর মুখের ব্যাস ছয় ইঞ্চি।

মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলা সম্রাটের ভাই যুবরাজ শাহ সুজাকে পরাজিত করে সুবা বাংলায় এসেছিলেন। এর পুরস্কারস্বরূপ তিনি দায়িত্ব পান বাংলার সুবেদারের পদ। সুবেদার হয়ে তিনি ঢাকায় বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলেন। রাস্তাঘাট নির্মাণ ও শহরের নিরাপত্তার জন্য দুর্গ নির্মাণ করেন। কথিত আছে, ঢাকা গেট তিনিই তৈরি করেছিলেন, এখান থেকেই ঢাকার শুরু তা নির্দেশিত হতো এই ফটক দ্বারা। কিন্তু কয়েকজন ইতিহাসবিদ দ্বিমত পোষণ করেছেন। অনেকেই মনে করেন, ঢাকা গেট মুঘল আমলে নয়, ইংরেজ আমলের স্থাপনা। সম্প্রতি এই ঢাকা গেটের পাশেই স্থাপিত হয়েছে সেই ৩৫৯ বছরের পুরনো কামান ‘বিবি মরিয়ম’। শাহ সুজাকে পরাজিত করার পর মীর জুমলা আসাম জয়ের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। আসাম অভিযান শেষে ঢাকায় ফেরার পথে তার মৃত্যু হয়। তার অভিযানের এই কামানের স্থান হয় সোয়ারী ঘাটে। তখন ঢাকার অধিবাসীদের কাছে এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শোনা যায়, অনেকে নাকি ফুল চড়াতেন, চন্দন লেপন করে ভক্তি প্রদর্শন করতেন। কথিত আছে, এই কামানের একটি জোড়ও নাকি ছিল, তার নাম ছিল ‘কালে খাঁ জমজম’ যা বুড়িগঙ্গায় ডুবে গিয়েছিল। লোকমুখে কুসংস্কার ছড়িয়েছিল, কালে খাঁ জমজম নাকি সঙ্গী মরিয়মের স্মরণে মাঝে মাঝে ভেসে উঠত। ইংরেজ আমলে বিবি মরিয়মের গহ্বর লোহা গলিয়ে বন্ধ করে ফেলা হয়। তখন থেকে এটি শুধুই নিদর্শনের বস্তু হয়ে দাঁড়ায়। বুড়িগঙ্গার পাড় থেকে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে স্থানান্তরিত হয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এই ঐতিহাসিক কামানের স্থান হয় ওসমানী উদ্যানে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঢাকা গেট সংস্কার করে এর পাশে বিবি মরিয়মের জন্য একটি স্থান তৈরি করা হয়। ঢাকা গেটের সংস্কারের কাজ শেষ হলে ওসমানী উদ্যান থেকে কামানটি নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করা হয়। ঢাকা ফটক ও মীর জুমলার এই কামানটি এখন ঢাবি ক্যাম্পাসের পুরাতাত্ত্বিক পরিবারের নতুন সদস্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত