বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঈদের ছুটি এক দিন বাড়ানোর সুপারিশ

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪৯ এএম

আসছে ঈদুল ফিতরের ছুটি এক দিন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে আইশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। দুর্ভোগ এড়িয়ে ঈদে সবাই যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্য ৯ এপ্রিল ছুটি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক থেকে এই সুপারিশ আসে। কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

কমিটির সুপারিশ আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মোজাম্মেল হক। এ ছাড়া সরকারের অভিযোগ আমলে না নিলে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো প্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঈদের ছুটি এক দিন বাড়ানোর বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ওই ছুটি না হলে ঈদযাত্রায় বাড়ি ফেরার চাপ সব এক দিনে পড়বে। রাস্তায় চাপ কমাতে পুলিশের মহাপরিদর্শক এমন প্রস্তাব দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তা সুপারিশ আকারে আগামীকাল (আজ) মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করবে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে, সে জন্য আমরা কাজ করছি।’

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতন যাতে সময়মতো পরিশোধ করা হয়, সে জন্য প্রয়োজনে ব্যাংক বেশিক্ষণ খোলা রাখা হবে, বন্ধের দিনও সেবা দিতে পারে যাতে শ্রমিকদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ না হয়। শ্রমিকদের যে প্রাপ্য, সেগুলো যাতে সময়মতো পরিশোধ হয়, সে জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামীকাল (আজ) মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।’

এর আগে ঈদযাত্রায় যানজট, যাত্রী হয়রানি ও সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে ৮ ও ৯ এপ্রিল দুদিন ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবি জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১০ বা ১১ এপ্রিল দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে। তবে সরকার এবার রমজান মাস ৩০ দিন ও ঈদুল ফিতর ১১ এপ্রিল হচ্ছে ধরে ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল ঈদের ছুটি নির্ধারণ করেছে। এর আগে ৭ এপ্রিল শবেকদরের ছুটি রয়েছে। শবেকদরের ছুটির পর ৮ ও ৯ এপ্রিল অফিস খোলা।

অভিযোগ আমলে না নিলে ফেসবুক-ইউটিউব বন্ধ : আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অন্যান্য আলোচনার বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের অভিযোগ আমলে না নিলে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো প্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়া হবে। গুজব প্রতিরোধ ও সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে ওদের (ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল) হেড অফিস এখানে না থাকার কারণে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সুপারিশ-কথা তারা শোনেও না। তারা যে শুনছে না, সেটা আমরা পাবলিকলি প্রচার করব। প্রয়োজন হলে এগুলো কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আগে প্রোপার নোটিফাই (যথাযথভাবে নোটিস) করব। আমাদের অভিযোগ যথাযথভাবে আমলে না নিয়ে তারা (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) এসব ক্রাইম, গুজব অব্যাহত রাখছে এবং তাদের পক্ষ থেকে (প্রতিরোধে) কোনো উদ্যোগ নেই।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রথমে তাদের বারবার বলা হবে, দরকার হলে আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আকারেও বলব। যেন এ কথা বিশ্ববাসীর কাছে মনে না হয়, এখানে কোনো মৌলিক অধিকার ব্যাহত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার আইনের যে বিধানগুলো রয়েছে, কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া। তারা আমাদের অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাদের এই উদাসীনতা পাবলিক নোটিসের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করা, যদি কখনো এগুলো বন্ধ হয় দায়টা যেন সরকারের ওপর না আসে, তাদের ওপরেই যেন বর্তায়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত