তুরস্ক
ঈদের দিন তুরস্কের ছোট ছেলেমেয়েরা দলবেঁধে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। ঈদের দিনকে তুরস্কের অধিবাসীরা ‘সেকার বেরামি’ বা মিষ্টির উৎসব বলে। শিশুরা যে বাড়িতেই যায় তাদের হাতে গৃহস্বামী তুলে দেন বিভিন্ন মিষ্টান্ন। এই দিনে তুরস্কের অধিবাসীরা ঈদের নামাজ শেষে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং দলবেঁধে কবর জিয়ারত করেন। ঈদের দিনে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় অপেক্ষাকৃত বয়োজ্যেষ্ঠদের ডান হাত চুম্বন করে শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের রীতিও দেখা যায় তুরস্কে।
পাকিস্তান
হিজরি সন মতে চন্দ্র মাস ২৯ বা ৩০ দিনে হয়ে থাকে। ২৯ রমজানের শেষে যদি শাওয়ালের চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে ৩০ রমজানের পর শাওয়াল মাস শুরু হয়ে গেছে ধরে নেওয়া হয়। আর এর সঙ্গে শুরু হয়ে যায় চাঁদ রাত। রমজানের শেষ ইফতার করে পাকিস্তানের কিশোরী, তরুণী, যুবতী, নারী সবাই বাজারে ছোটে ঈদের কেনাকাটা করতে। চুড়ি, মালা, ফিতা, সালোয়ার-কামিজ আর অবশ্যই মেহেদি। মেহেদিতে হাত রাঙানো পাকিস্তানি নারীদের প্রিয় কাজ। বাড়িতে ফিরে রয়েছে ঈদের বিশেষ রান্নার ব্যস্ততা। এসব কারণে পাকিস্তানি নারীরা বাজার করতে করতেই হাতে মেহেদির নকশা করে থাকে। এই একটি ব্যাপারই পাকিস্তানের চাঁদ রাতকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের চাঁদরাত থেকে আলাদা করেছে। মেহেদি রাঙানোর জন্য আছে পেশাজীবী নারীরা। তারা তাদের সরঞ্জাম নিয়ে বাজার, মল, এমনকি রাস্তায়ও বসে থাকে। নারীরা তাদের প্রয়োজনীয় বা সাজসজ্জার সরঞ্জাম কেনাকাটার বিরতিতে হাত মেহেদি রঞ্জিত করতে পারেন সহজেই। আকাশে এক ফালি রুপালি চাঁদ এবং হাতে রাঙা নকশা নিয়ে পাকিস্তানের নারীদের ঈদ শুরু হয়। চাঁদরাতে দোকানগুলো সারা রাত খোলা থাকে, ভোরের আলো ফুটলে দোকানিরা তাদের দোকান বন্ধ করেন। দীর্ঘদিন রোজা রাখা ও সংযম পালনের পর চাঁদরাত হলো বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পুনর্মিলনের উপযুক্ত স্থান।
সাউথ আফ্রিকা
শাওয়ালের চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর ঘোষিত হয়। সাউথ আফ্রিকায় ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা গেছে এই ঘোষণা করতে পারেন ‘মান কাইকার’রা। আফ্রিকান ভাষায় ‘মান কাইকার’ অর্থ হলো চাঁদের পর্যবেক্ষক।
দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে মুসলমানরা প্রধান শহর কেপটাউনে নতুন চাঁদ দেখার অনুষ্ঠানে যায়। তবে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কর্তৃক নিযুক্ত মান কাইকাররা আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখার ঘোষণা দিতে পারেন। সি পয়েন্ট প্রোমেনাডে, থ্রি অ্যাঙ্কর বে বা সিগন্যাল হিলের ওপরে তীরে দাঁড়িয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে তারাই জানাতে পারেন যে, ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা গেছে। এক্ষেত্রেও শর্ত আছে। চাঁদটি অবশ্যই খালি চোখে দেখা যেতে হবে। সবাই মিলে চাঁদ দেখার মাধ্যমে কেপটাউন তথা সাউথ আফ্রিকাবাসী সামাজিক সৌহার্দ্য বিনিময় করে।
সৌদি আরব
ঈদের খুশি যেন সবাই উপভোগ করতে পারে সেজন্য সৌদি আরবের বাসিন্দারা একটি বিশেষ কাজ করে। ঈদের দিন তারা বাজার থেকে বেশি পরিমাণে চাল কিনে আনেন। এই চাল তারা নিজের জন্য কেনেন না। কেনেন অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য যাদের চাল কেনার সামর্থ্য নেই তাদের জন্য। এই বাড়তি চাল তারা নিজেদের বাড়ির দরজার সামনে রেখে দেন যেন অভাবী মানুষেরা বিনা সংকোচে এই চাল নিয়ে যেতে পারে এবং ঈদের খুশি উপভোগ করতে পারে। এই দিনে পুরুষেরা ‘কান্দর’ নামের সাদা পোশাক পরে মাথায় দেয় ‘গাহফিহ’ নামের টুপি আর নারীরা পরেন ‘থাউব’ নামের পোশাক।
এজাজ পারভেজ
