চাঁদের হবে নিজস্ব টাইম জোন

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১০ এএম

অঞ্চলভেদে পৃথিবীর মতো চাঁদেও টাইম জোন চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজ। এই লক্ষ্যে ২০২৬ সাল নাগাদ চাঁদের জন্য নতুন টাইম জোন তৈরির নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে নাসাকে। এই নতুন সময়কে ডাকা হচ্ছে কো-অর্ডিনেটেড লুনার টাইম বা সমন্বিত চন্দ্র সময় (এলটিসি) নামে। হোয়াইট হাউজের দাবি, এই টাইম জোন ভবিষ্যতে চাঁদের বিভিন্ন মিশন পরিচালনায় সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিবিসি বলছে, ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’-এর নীতিমালার মোতাবেক নাসাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন মার্কিন বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, রাষ্ট্রীয় ও পরিবহন বিভাগের সঙ্গে কাজ করে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ এলটিসি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা তৈরি করে।

মহাকাশে অনুসন্ধান ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণ আনার লক্ষ্যে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ নীতিমালায় এখন পর্যন্ত স্বাক্ষর করেছে ৩৭টি দেশ, যে সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যদিও চীন ও রাশিয়া এ দলের অংশ নয়।

হোয়াইট হাউজের প্রকাশিত সংবাদ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতিমালা দপ্তর ‘ওএসটিপি’র জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক স্টিভ ওয়েলবি লিখেছেন, যেহেতু নাসা, বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানি ও পুরো বিশ্বের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো চাঁদ, মঙ্গল ও এর চেয়েও দূরে মিশন পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েছে, তাই নিরাপত্তা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আমাদের মহাকাশীয় অথবা ‘সেলেস্ট্রিয়াল’ সময়ের মানদণ্ড বানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্টিভ ওয়েলবি বলেন, মহাকাশে মিশন পরিচালনার ক্ষেত্রে সময়ের গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা মহাকাশের সফল পরিস্থিতিগত সচেতনতার সক্ষমতা, ন্যাভিগেশন ও যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এর সবই মার্কিন সরকার ও তাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

আইনস্টাইনের ‘থিওরি অব রিলেটিভিটি’ বা আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুসারে, গতি ও মাধ্যাকর্ষণের ওপর ভিত্তি করে সময় পরিবর্তিত হয়। চাঁদে দুর্বল মাধ্যাকর্ষণ ও পৃথিবীর সঙ্গে এর গতিবিধির পার্থক্য বিবেচনায় নিলে, সেখানে সময় কিছুটা দ্রুত অতিবাহিত হয়। তাই একটি পৃথিবীভিত্তিক ঘড়ির হিসাবে, চাঁদের পৃষ্ঠে গড় দিন পৃথিবীর তুলনায় ৫৮ দশমিক ৭ মাইক্রোসেকেন্ড বেশি হবে। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ চাঁদে গবেষণা, অনুসন্ধান ও পরে স্থায়ী বসতি নির্মাণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মিশন পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েছে, তাই একটি একক মানদণ্ড ব্যবহার তাদের প্রযুক্তি ও বিভিন্ন মিশনে নির্ভুল সময় দেখাতে সাহায্য করবে বলে প্রতিবেদনে বলেছে বিবিসি।

নাসার ‘স্পেস কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ন্যাভিগেশন’ বিভাগের প্রধান কেভিন কগিন্স বলেন, এই একই ঘড়ি পৃথিবীতে চাঁদের তুলনায় ভিন্ন সময় দেখাবে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে ওয়াশিংটনে অবস্থিত মার্কিন ন্যাভাল অবজারভেটরির পারমাণবিক ঘড়ি। এগুলো দেশের হৃৎস্পন্দন হিসেবে কাজ করে, যেখানে সবকিছুই সামঞ্জস্য করা। তাই চাঁদেরও এমন একটি হৃৎস্পন্দন চাইবেন আপনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত