প্রবৃদ্ধি হচ্ছে কর্মসংস্থান ছাড়াই

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১৩ এএম

দেশের প্রবৃদ্ধি কয়েক বছর ধরে ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ আশানুরূপ নয়। বিনিয়োগ যেমন কম, দেশের প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে কর্মসংস্থান ছাড়াই। ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে এমন অভিমত দিয়েছেন বক্তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে গবেষণা সংস্থা সানেম এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এই অভিমত জানিয়েছেন।

‘দক্ষিণ এশিয়া কী কর্মসংস্থানবিহীন উন্নয়ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের ভূমিকাই ছিল বেশি। প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা চাকরির বাজারে আসা শ্রমশক্তির জন্য নতুন টেকসই কর্মসংস্থানে বেসরকারি খাত বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ হচ্ছে না। ফলে সবাই যেখানে শোভন চাকরির কথা বলছেন, তেমন চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি তো দূরের কথা, চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে এ আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফ্রানজিস্কা ওনসর্গ বলেন, অন্যান্য উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ ও অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সরকারি বিনিয়োগের তুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগ খুবই কম।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতের কারণে কৃষকরা কৃষি ছেড়ে অকৃষি খাতে যাচ্ছেন। তবে অকৃষি খাতে এত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি।

ওনসর্গ ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তির কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাণিজ্যে নানামুখী প্রতিবন্ধকতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও মত দেন তিনি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গুণগত মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে কর্মশক্তিতে একীভূত করা এই তিনটি কাজ এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার হতে পারে বলে মত দেন বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বার্নার্ড হ্যাভেন।

তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আন্তঃনির্ভরতা আছে। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং একটি ইতিবাচক ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রুবানা হক বলেন, শুধু নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি নয়, শোভন চাকরি বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য সব সময় চ্যালেঞ্জের। নানা পর্যায়ে বছরের পর বছর আলোচনা, সভা-সেমিনারের পরও এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন হচ্ছে না। তৈরি পোশাকশিল্প একক প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বহুমুখীকরণের প্রক্রিয়া খুবই ধীর। যার কারণে অন্যসব খাত খুব বেশি চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারছে না।

প্রযুক্তি গ্রহণ বা আধুনিকায়নের কারণে তৈরি পোশাকশিল্প খাতে চাকরি কমছে জানিয়ে রুবানা হক বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে ধরনের কর্মকৌশল নির্ধারণ করার দরকার ছিল, তার ঘাটতি রয়েছে। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তি গ্রহণ বা আধুনিকায়নেরও বিকল্প নেই।

রুবানা হকের মতে, নতুন যেসব মুখ চাকরির বাজারে আসছে, তাদের জন্য কর্মসৃষ্টির জন্য কী করা যেতে পারে, তা নিয়ে ভাবতে হবে। শোভন চাকরি ও উচ্চতর দক্ষতা অর্জনের জন্য উপযুক্ত শিক্ষা পুরো পরিস্থিতিকে পাল্টে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং স্টার্টআপ বিজনেস ও ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্প (এসএমই) খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য জরুরি বিষয় হলো সামষ্টিক, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। বর্তমান শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নীতি সংস্কারে গুরুত্ব দেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত