বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘দেশ আজ গভীর সংকটে। এমন সময়ে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা বিজিবির ওপর নির্ভর না থেকে অবিলম্বে দেশের সীমান্ত জুড়ে সেনা মোতায়েন জরুরি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের সীমান্ত, সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়। সার্বভৌমত্বের সংকট হলে বিএনপি চুপ করে বসে থাকতে পারে না।’
গতকাল শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘দেশ যেন আজ উন্মুক্ত কারাগার। বিপন্নতার মুখে দেশের স্বাধীনতা। দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা দূরে থাক, দেশের সার্বভৌমত্বই হুমকির সম্মুখীন, স্বাধীনতা বিপন্ন প্রায়। যেসব বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে হামলা করছে আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা তার গোয়েন্দারা বেখবর।’
তিনি বলেন, ‘গত ৪ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কুকি-চিনের আস্তানা আমাদের র্যাব ও আর্মি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। তারা আমাদের সীমানা পার হয়ে ভিন্ন কোনো দেশে আশ্রয় নিয়েছিল। এখন তারা কোত্থেকে আসছে? কুকি-চিন সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও খোঁজখবর রাখেননি। বরং অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় কোনো এক অজ্ঞাত অজানা কারণে কুকি-চিনকে তোয়াজ করা হয়েছে। কেন কুকি-চিনকে এত তোয়াজ করা হয়েছে, এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে আসল রহস্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কুকি-চিনের পরিবর্তে পাহাড়ে তথাকথিত জঙ্গি ধরার নাটক করেছে। অপ্রিয় হলেও সত্য, এই কুকি-চিনকে ব্যবহার করে নিজেদের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে গিয়ে অবৈধ ক্ষমতালিপ্সু শেখ হাসিনার সরকার দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপদে ফেলে দিয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কুকি-চিনের তৎপরতা বন্ধ করতে হলে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। অন্যথায় ব্যাংক লুট, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য কখনো জানা সম্ভব হবে না।’
মিয়ানমারের মতো ভারত সীমান্ত ‘অরক্ষিত’ উল্লেখ করে সেখানকার সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার ঘটনা হচ্ছে বলে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা আহমদ আযম খান, অধ্যাপক ডা. সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ।
