শিশুর জন্মগত নানা ধরনের হৃদরোগ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২৭ এএম

শিশুর জন্মগত নানা ধরনের হৃদরোগজন্মগত শিশু হৃদরোগের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে গর্ভাবস্থায় ও গর্ভ পরিকল্পনাকালীন সময়ে বিভিন্ন ওষুধ, রাসায়নিক দ্রব্য, রেডিয়েশন, মায়ের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভাবস্থায় মায়ের রুবেলা সংক্রমণ ইত্যাদির সঙ্গে শিশু হৃদরোগের সম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়াও জেনেটিক কিছু রোগ যেমন- ডাউন সিনড্রোম, টারনার সিনড্রোম নিয়ে জন্মানো শিশুরা হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে। মায়ের গর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় শিশুর হৃদযন্ত্র তৈরি ও বিকশিত হওয়ার প্রাক্কালেই কোনো প্রকার ত্রুটি হয় এবং শিশু সেই হৃদযন্ত্র নিয়ে ভূমিষ্ঠ হয়, তাকে জন্মগত হৃদরোগ বলে।

লক্ষণ : শিশু কাঁদতে কাঁদতে নীল হয়ে যায়। বুকের দুধ খেতে খেতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, এমনকি অনেক সময় ঘুমিয়ে পড়ে। বুকের দুধ টেনে খেতে সমস্যা হয়। কোলে ভালো থাকে, বিছানায় শুইয়ে দিলে কষ্ট পায় এবং কান্না করতে থাকে। খাওয়ার সময় কপাল, মাথার তালু অনেক ঘেমে যায়। এ ছাড়া তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশু হাঁটতে গেলে বা দৌড়ানোর সময় সহজেই হাঁপিয়ে পড়ে। বারবার বসে পড়ে। ঠোঁট, আঙুলের ডগা নীল হয়ে যায়। বয়স অনুযায়ী শিশুর বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না। হঠাৎ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারে। ঠা-াজনিত অসুখে ভুগতে থাকে, অ্যান্টিবায়োটিক বা হাসপাতালে নেওয়ার দরকার হয়ে পড়ে।

রোগ নির্ণয় : একটি মাত্র পরীক্ষা  করা হয় রোগ শনাক্তের জন্য তাহলে সেটা হলো কালার ডপলার ইকোকার্ডিওগ্রাফি (Color Doppler Echocardiography)। এ ছাড়াও চেস্ট এক্স-রে, ইসিজি, হলটার মনিটরিং, ক্যাথ স্টাডি, কার্ডিয়াক সিটি স্ক্যান, এম আর আই ইত্যাদি।

চিকিৎসা : শিশুদের হার্টের অসুখের চিকিৎসা মূলত দুই ধরনের। বেশির ভাগ সময়েই সার্জারি না করে চেষ্টা করা হয় অন্য উপায়ে। ক্যাথিটার ইন্টারভেনশনের সাহায্যে হার্টের ফুটা, ভাল্বের সমস্যার চিকিৎসা করা হয়। কিছু জটিল সমস্যার জন্য সার্জারির প্রয়োজন হয়।

হৃদরোগের নাম ও চিকিৎসা

এএসডি--ASD: হার্টের ওপরের অংশের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝে অস্বাভাবিক ফুটো থাকার নামই এএসডি। বড় এএসডি হলে অথবা নিজে নিজে বন্ধ না হলে অপারেশন বা ক্যাথেটার করে ডিভাইস ক্লোজার করা যায়।

ভিএসডি-VSD : হার্টের নিচের অংশের দুটি প্রকোষ্ঠের মধ্যে একটি অস্বাভাবিক ফুটো থাকার নামই ভিএসডি। বিভিন্ন ধরনের ভিএসডি আছে, খুব জটিল প্রকৃতির না হলে এটাও ২ বছরের মধ্যে নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ ভিএসডিই অপারেশন বা ক্যাথেটার করে ডিভাইস ক্লোজার (ইন্টারভেনশন বা বিনা অপারেশনে রক্তনালির মাধ্যমে) করে বন্ধ করতে হয়।

টফ-TOF : জন্মের সপ্তাহ দুয়েক পর থেকেই শিশুর শ্বাস কষ্ট এবং খাবার সময় অথবা কান্না করলে শিশুটি নীল হয়ে যেতে থাকে। আস্তে আস্তে লক্ষণ বাড়ে এবং শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়। মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই সে নীল হয়ে যায়, এ সময় মলত্যাগের ভঙ্গিমায় বসে থাকলে রোগীর আরাম হয়। অপারেশনই এই রোগের একমাত্র চিকিৎসা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত