সমন্বিত অভিযানে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে : সেনাপ্রধান

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫৪ এএম

কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার ও এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বান্দরবানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সমন্বিত অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও দুটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।’ গতকাল রবিবার দুপুরে বান্দরবান সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সেনাপ্রধান।

তিনি অভিযানের কার্যক্রম পরিদর্শন ও সমন্বয়ের জন্য বান্দরবান সেনা রিজিয়ন ও ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড সদর দপ্তরে আসেন। রিজিয়ন সদর দপ্তর ও অভিযানসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সেনানিবাসের হেলিপ্যাডে সেনাবাহিনীপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি চলমান অভিযান সম্পর্কে বলেন, ‘জনগণ দেখতে পাবে যে সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা নেই। সেনাবাহিনী সম্পূর্ণরূপে সক্ষম তাদের মোকাবিলা করার জন্য। অভিযান চলমান রয়েছে। সবকিছুর সমন্বয় আমরা করছি, সবকিছু সমন্বিতভাবে হচ্ছে। সরকার যেটা চাচ্ছে, আমরা আমাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

কেএনএফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘গত বছর জুন মাসে বলেছিলাম কুকি-চিন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য যেসব ঘাঁটি তৈরি করেছিল বাংলাদেশের ভেতরে, সবগুলোই আমরা দখলে নিয়েছি। তাদের আমরা বিতাড়িত করেছিলাম। তারপরও তারা শান্তির আলোচনার ছত্রচ্ছায়ায় ধীরে ধীরে সন্ত্রাসী কর্মকা-ে লিপ্ত হয়েছে। চুরি, ডাকাতির চিন্তায় তারা উদ্দেশ্য জাহির করে ফেলেছে।’

সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে বলে উল্লেখ করেন এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে দায়িত্ব, বিশেষ করে যৌথ অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া, সেগুলো আমরা অত্যন্ত পেশাদারির সাঙ্গে করব। আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা খুবই পরিষ্কার। বাংলাদেশের জনগণের শান্তির জন্য যা করণীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেটা করতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আতঙ্ক দূর করার জন্যই আমরা স্বশরীরে এখানে আসছি। গতকাল রাতেও কিছু সন্ত্রাসীকে ধরতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুরুতে তাদের বিশ্বাস করেছিলাম। যেহেতু শান্তি আলোচনা হচ্ছে, শান্তি আলোচনা শেষ হয়নি, এর ভেতরেই অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।’

কেএনএফের হামলার বিষয়ে আগাম কোনো তথ্য ছিল কি না জানতে চাইলে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আগাম তথ্য থাকলে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতাম। আমরা তো তাদের বিশ্বাস করেছি। তারা তো দুইবার বসেছিল, তৃতীয়বারও বসার কথা।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি যখন অশান্ত হয়, তখন সেনাবাহিনীর দরকার। যখন শান্তি থাকবে, তখন অসামরিক প্রশাসন সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত