যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য

মার্চে যাত্রাপথে প্রাণ গেছে ৬১২ জনের

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:২৩ এএম

মার্চ মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৬৫ জন নিহত হয়েছে। এই মাসে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১ হাজার ২২৮ জন। মাসটিতে রেলপথে ৩৮টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও ৮৬ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া নৌপথে ৭টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছে। মাসটিতে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৯৭টি দুর্ঘটনায় ৬১২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৩১ জন আহত হয়েছে।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরেছে। সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য বলছে, মাসটিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এই সময়ে ১৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৩ জন নিহত ও ১৬৬ জন আহত হয়েছে; যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ, নিহতের ৩৫ দশমিক ৯২ শতাংশ ও আহতের ১৩ দশমকি ৫১ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৬২টি। এসব দুর্ঘটনায় ১৬৫ জন নিহত ও ৩০৬ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। অঞ্চলটিতে ২৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও ৯২ জন আহত হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১২ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ১৮৩ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৮২ জন পরিবহনশ্রমিক, ৩১ জন শিক্ষার্থী, ৭ জন শিক্ষক, ১০৯ জন নারী, ৭০ শিশু, ৩ জন চিকিৎসক, ১ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং ৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। তাদের মধ্যে নিহত হয়েছে ৫ পুলিশ সদস্য, ১ আনসার, সেনাবাহিনীর ৩ সদস্য, ২ চিকিৎসক, ১ জন মুক্তিযোদ্ধা, ১৩০ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭৮ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৬৩ জন শিশু, ২১ জন শিক্ষার্থী, ৩১ জন পরিবহনশ্রমিক, ৬ জন শিক্ষক ও ৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৯৩টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৪ দশমিক ৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান ও লরি, ১১ দশমিক ২২ শতাংশ বাস, ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

দুর্ঘটনার ৫৭ দশমিক ৪২ শতাংশ গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা, ১৭ দশমিক ২১  শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১ দশমিক ৭৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ২ দশমিক ৮৩  শতাংশ বিবিধ কারণে এবং শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ মাসে মোট দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ৬০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৭ দশমিক ২১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৩৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ১৮  শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রকাশিত এ তথ্য দেশে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র নয়। এটি কেবল গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য। দেশে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত গণমাধ্যমে স্থান পায় না। তাই এসব তথ্য আমাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরা সম্ভব হয় না। দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রাথমিক উৎসস্থল দেশের হাসপাতালগুলোতে দেখলে এমন ভয়াবহ তথ্য মেলে।’

তিনি জানান, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) মার্চ মাসে ১ হাজার ৩৬৯ জন সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ১০ হাজার সরকারি ও ৬ হাজার বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে এসব হাসপাতালে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রায় ৩ লাখের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। অথচ গণমাধ্যমে তার ১০ ভাগের ১ ভাগ তথ্যও প্রকাশিত হয় না বলে আমরা ঘটনার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরতে পারি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত