পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করলে তাদের সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘নতুন গজিয়ে ওঠা সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন কেএনএফের (কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) জন্য শান্তির পথে ফিরে আসতে এখনো আলোচনার পথ খোলা আছে। তারা চাইলে আত্মসমর্পণ করে শান্তির পথে ফিরে আসুক। তাদের জন্য যা যা করা লাগবে সেসব আমরা করব। তবে স্বাধীন দেশে এ অবৈধ অস্ত্রধারীদের মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তারা যতক্ষণ শান্তির পথে ফিরে না আসবে ততক্ষণ যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় বান্দরবান সার্কিট হাউজে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন র্যাব মহাপরিচালক।
এর আগে তিনি রুমা ও থানচি মসজিদ, উপজেলা পরিষদ এবং ব্যাংক ডাকাতির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বান্দরবান সার্কিট হাউজে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘বান্দরবানে যৌথ অভিযান চলছে। স্বাধীন দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। এ দেশে কোনো অবৈধ সশস্ত্র সংগঠন থাকবে এটা আমরা চাই না। যারা বিপথে গেছেন আমাদের অনুরোধ থাকবে তারা বুঝতে পারবেন, তারা শান্তিতে বিশ্বাস করবে, শান্তিতে বসবাস করবে। অতীতে সর্বহারারা আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে, পুনর্বাসন করা হয়েছে। যারা বিপথে গেছেন তারা সশস্ত্র পথ ছেড়ে দিয়ে, নিজেরা আত্মসমর্পণ করতে চাইলে আমরা তাদের স্বাগতম জানাব, পুনর্বাসন করব।’
পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য জেলায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। সরকার চেয়েছে এই এলাকায় যেসব জাতিগোষ্ঠী যারা আছে তারা এলাকায় থাকবে, শান্তিতে থাকবে। এটা সরকারপ্রধান চায়। তবে অশান্তি সৃষ্টি করলে সেটা মেনে নেওয়া হবে না।’
আলোচনার পথ খোলা আছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে শান্তি কমিটি আছে। কমিটির সঙ্গে আলোচনার পথ তো বন্ধ হয়নি। আলোচনার পথ খোলা আছে। আমরা সবদিক দিয়ে চেষ্টা করছি। আমরা বিশ্বাস করি তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা সৎপথে চলে আসবে।’
গত ২ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে জেলার রুমায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় হানা দেয় অস্ত্রধারীরা। ওই হামলায় কেএনএফের শতাধিক সদস্য অংশ নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেদিন অস্ত্রধারীরা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ১৪টি অস্ত্র ও ৪১৫টি গুলি লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া ওই ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দিনকে সেখান থেকে অপহরণের ৪৮ ঘণ্টা পর রুমা সদরে ছেড়ে দেয় অস্ত্রধারীরা। এর পরদিন জেলার সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের থানচি উপজেলার দুটি শাখা থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা লুট করে অস্ত্রধারীরা। এ দুটি ঘটনায়ও কেএনএফ সদস্যরা জড়িত বলে ধারণা করা হয়।
এরপর থেকেই পার্বত্য অঞ্চলে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। অভিযানের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল কেএনএফের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক চেওশিম বমকে বান্দরবানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার তথ্য জানায় র্যাব।
