ইরানকে ইসরায়েল কীভাবে এবং কখন জবাব দেবে, তা অপেক্ষা এখনো ফুরায়নি। এ নিয়ে গতকাল বুধবারও এক দফা বৈঠক হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদ বের হয়েছে। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল ইসরায়েল সফর করেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে অবহিত করেন, তার দেশ ইরানকে জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর অবরোধ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) এই পথে হাঁটতে পারে।
ইসরায়েল সফররত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘সরকার দেশকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সবই করবে। ইরানকে জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েল নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে।’
ইরানের ছোড়া তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ইসরায়েল এর জবাব দিতে দফায় দফায় বৈঠক করছে। গাজায় ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে দেশটি ইরানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতিতে পৌঁছায়। এখন ইসরায়েল কীভাবে ইরানকে সেই হামলার জবাব দেবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা।
গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে তেহরানের গার্ড বাহিনী আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডারসহ ১৪ জনকে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে হত্যার পর ইরান ওই হামলা চালিয়ে বসে। নেতানিয়াহুর ওই অবস্থানের পাশাপাশি ক্যামেরনও তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত যথাসম্ভব সীমিত, সুনির্দিষ্ট ও স্মার্ট।’ তিনি জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতেই তিনি সফর করছেন।
সংহতি প্রকাশ করতে ইসরায়েল সফর করেছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্নালেনা বেয়ারবক। এ সময় তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। বেয়ারবক বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যকে এমন কোনো পরিস্থিতিতে নেওয়া যাবে না, যার ফল পুরোপুরি অকল্পনীয় হয়ে দাঁড়ায়।’
এদিকে ইরানের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। পশ্চিমা বিশে^র মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাকি সুলিভান বলেন, ‘আগামী দিনে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির পাশাপাশি আইআরজিসি ও ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগীদের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করা হবে। আমাদের ধারণা, আমাদের সহযোগী ও অংশীদাররা এতে শিগগিরই যোগ দেবে।’ এদিকে জার্মানি জানিয়েছে, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তরফ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাশা করছে।
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর ড্রোনের আঘাতে আহত ১৮: লেবানন থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ছোড়া একটি ড্রোন ইসরায়েলের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আঘাত হেনেছে। এতে ১৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। গতকাল বুধবার ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তের আরব আল–আরামশি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় চিকিৎসক ও সেনাবাহিনীর কাছ থেকে হামলার বিষয়ে জানা গেছে। স্থানীয় গালিলি মেডিকেল সেন্টার কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এই হামলার দায় স্বীকার করে হিজবুল্লাহ বলেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ব্যবহার করে, এমন একটি ভবন লক্ষ্য করে তারা এ হামলা চালিয়েছে। হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এক দিন আগে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের হামলায় দুই কমান্ডারসহ তিন সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে।
