পতন ঠেকাতে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক এসইসিতে

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৭ এএম

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সময়ই দরপতনের শঙ্কা ছিল। তবে সে সময় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে বেশিরভাগ ব্রোকারেজ হাউজকে কোটি টাকা করে ঋণের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে জানুয়ারিতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর সম্মিলিত উদ্যোগে বড় পতন থেকে সাময়িক রক্ষা পেয়েছিল পুঁজিবাজার। তবে পরের মাস ফেব্রুয়ারি থেকে ক্রেতা-সংকটে ফের দরপতন দেখা দেয়, যা গতকালও অব্যাহত ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় দরপতনের এমন ধারা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি।

এমন পরিস্থিতিতে দরপতন ঠেকাতে করণীয় খুঁজতে অংশীজনদের নিয়ে আজ সোমবার বেলা ৩টায় এসইসি কার্যালয়ে বৈঠক ডেকেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে কেউ দরপতন ঘটাচ্ছে কি না বা দরপতনের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের ঘটনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাজার এখন বটমলাইনে। কিন্তু জানুয়ারিতে যখন শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তখন বাজার মধ্যস্থতাকারীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বাজারে বড় ধরনের পতন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বাজারে এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কম। কেন প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে না, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, কোনো নীতি সহায়তার দরকার হবে কি না, এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য এ বৈঠক ডাকা হয়েছে।

এসইসি সূত্রে জানা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিএসইর ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এবং শীর্ষ ১০টি ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহীদের এ বৈঠকে ডাকা হয়েছে। বৈঠকে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টানা দরপতন ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই মূলত এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে পুঁজিবাজারে দরপতন শুরু হয়। প্রায় দুই মাস ধরে দরপতনের ধারায় রয়েছে বাজার। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবারও ডিএসইর সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল দিন শেষে ৩৩ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ৫ হাজার ৬৫৩ পয়েন্টে। গত ৩৫ মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইএক্সের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালের ৯ মে ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৬৪৬ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক ১১৯ পয়েন্ট বা পৌনে ১ শতাংশ কমেছে।

সূচকের পাশাপাশি দুই বাজারে লেনদেনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। ডিএসইতে গতকাল দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৭৮ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৪৪ কোটি টাকা কম। চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হয় ১৭ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১ কোটি টাকা কম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত