চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ডিবি, স্ত্রী কারাগারে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১১ এএম

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতির ঘটনায় সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার ডিবি কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আলী আকবর খান কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেননি। তবে বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সনদ জালিয়াতির দায় এড়াতে পারেন না জানিয়ে ডিবি বলেছে, তাকে দুদিনের সময় দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি তিনি তা না করেন এবং পরবর্তীকালে সনদ জালিয়াতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ডিবি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান হারুন আর রশীদ এসব কথা জানান। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সনদ জালিয়াতির ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন চেয়ারম্যান আলী আকবর। ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, রাজধানীর পীরেরবাগের পাইকপাড়ায় সিস্টেম অ্যানালিস্ট শামসুজ্জামানের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে জাল সনদ তৈরির ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। কারিগরির চেয়ারম্যানের স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনিও স্বীকার করেছেন। ডিবিপ্রধান বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছি, কারিগরি বোর্ডের ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কীভাবে মাসের পর মাস ধরে এ জালিয়াতি হয়েছে। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠান চলে তার নির্দেশনা ও নেতৃত্বে। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে কাগজ নিয়ে যাচ্ছে, সিসিটিভিতেও দেখা যাচ্ছে। তারপর কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। আবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকও সার্টিফিকেটগুলোতে স্বাক্ষর করে গেছেন মাসের পর মাস। এসব কাজ চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অবহেলায় করেছেন নাকি স্বপ্রণোদিত হয়ে করেছেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।’

এমন জালিয়াতি জেনেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে জানিয়ে হারুন অর রশীদ বলেন, জবাবে চেয়ারম্যান ডিবিকে বলেছেন যে, তাদের লোকবল কম ছিল। তাই নজরদারি করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া সার্টিফিকেট কেনাবেচা হচ্ছে, সার্টিফিকেট বানানোর পর আবার ওয়েবসাইটেও আপলোড হচ্ছে; এতসব অনিয়মের পরও তিনি (কারিগরির চেয়ারম্যান) দায় এড়াতে পারেন কি না। স্ত্রীর বিষয়টিও তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। জানতেন না বলে দাবি করেছেন।

চেয়ারম্যানের স্ত্রী কারাগারে : সনদ জালিয়াতির চক্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর খানের স্ত্রী সেহেলা পারভীনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহর আদালত এ আদেশ দেয়।

দুদিনের রিমান্ড শেষে সেহেলা পারভীনকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। তার পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী আবদুর রহমান হাওলাদার। আজ বুধবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত