দরপতন ঠেকাতে সব চেষ্টা বিফলের পর এবার শেয়ারের দরহ্রাসের সীমা কমিয়ে আনল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এখন থেকে ফ্লোর প্রাইসে থাকা কোম্পানি ছাড়া অন্যসব কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দাম এক দিনে ৩ শতাংশের বেশি কমতে পারবে না। তবে দামভেদে কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারবে। গতকাল বিকেলে এ সংক্রান্ত এক আদেশ জারি করেছে কমিশন।
এসইসির আদেশে বলা হয়েছে, দেশের পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর করতে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসইসির আদেশে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ১৭ জুন কমিশনের জারি করা আদেশ অনুসারে সার্কিট লিমিটের ক্ষেত্রে শেয়ার দরের ঊর্ধ্বসীমা অপরিবর্তিত থাকবে। আর শেয়ার দর কমার ক্ষেত্রে ফ্লোর প্রাইস থাকা সিকিউরিটিজ বাদে বাকি সব সিকিউরিটিজের জন্য ৩ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার প্রযোজ্য হবে। বর্তমানে বেক্সিমকো লিমিটেড, বিএসআরএম লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক, খুলনা পাওয়ার, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও শাহজীবাজার পাওয়ারের শেয়ারের ওপর ফ্লোর প্রাইস রয়েছে।
এ বিষয়ে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুঁজিবাজারে বিক্রিচাপ থাকলেও ক্রেতা কম। বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ যদিও এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অনেক মৌলভিত্তির শেয়ার যৌক্তিক মূল্যের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগ করার মতো তারল্যও রয়েছে। আমরা মনে করছি, কিছুটা সাপোর্ট দেওয়া হলে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
এর আগে ২০২১ সালে পুঁজিবাজারের টানা দরপতন ঠেকাতে শেয়ারের দামের সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বা ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। তাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দাম নির্দিষ্ট একটি সীমার নিচে নামার সুযোগ ছিল না। ফ্লোর প্রাইস আরোপের ফলে বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। বেশির ভাগ শেয়ারের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে বাজার অংশীজনরা ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হন। কারণ, বেশির ভাগ শেয়ারের লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে। পরে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়। জানুয়ারিতে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর পুঁজিবাজারে কিছুটা গতি দেখা যায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে আবারও দরপতন শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
দরপতন ঠেকাতে গত সোমবার অংশীজনদের নিয়ে এক বৈঠক করে এসইসি। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল, ওই বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু বৈঠকের কোনো সুফল বাজারে দেখা যায়নি। বৈঠকের পরদিন থেকে আবারও পতন দেখা দেয়।
গতকাল বুধবারও বাজারে দরপতন হয়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৫৫ পয়েন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৫ হাজার ৫৭৯ পয়েন্টে, যা গত ৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালে ৪ মে ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৫৩৫ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯৪টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ২৭৪টি বা ৭০ শতাংশেরই দরপতন হয়েছে। দাম বেড়েছে ৭৯টি বা ২০ শতাংশ শেয়ারের। আর দাম অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির বা ১০ শতাংশের। সূচক ও লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলেও মোট লেনদেনে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬০৩ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৫ কোটি টাকা বেশি।
