গ্রেপ্তারি পরোয়ানার শঙ্কায় নেতানিয়াহু

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০০ এএম

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর গাজায় ইসরায়েলিদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের চলতি যুদ্ধ সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির রক্তে ভিজে গেছে গাজার মাটি এবং ইসরায়েলি প্রশাসনের এই আগ্রাসন থামারও কোনো নজির নেই। এখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গণহত্যার অভিযোগে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হবে কি না, তা নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদের বিশ্লেষণী ওয়েবসাইট ‘মিডল ইস্ট মনিটর’ দাবি করেছে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হলে সম্ভাব্য করণীয় কী হবে তা নিয়ে গত বুধবার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হয়েছে।

ইসরায়েলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তরফ থেকে ফিলিস্তিনে গণহত্যার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আসেন আদালতের প্রধান কৌঁসুলি করিম খান। এবার ইসরায়েলি নেতৃত্ব গণহত্যার অভিযোগে পরোয়ানার মুখে পড়তে পারেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। দ্য হেগ শহরভিত্তিক জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) গণহত্যার মামলা নিয়ে চাপের মুখে ইসরায়েল। আদালতের জরুরি নির্দেশনায় চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েলকে গণহত্যা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এবার ইসরায়েলের শীর্ষ রাজনীতিক ও কর্তাদের বিরুদ্ধে যদি আইসিসির পরোয়ানা জারি হয়, তাহলে তা নজিরবিহীন ঘটনা। আইসিজেতে সাধারণত কোনো দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। আর আইসিসি সরাসরিভাবে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অপরাধে বিশ্বের যেকোনো দেশের মানুষকে আইনের আওতায় আনতে পারে। পুতিনের আগে সুদানের সাবেক স্বৈরশাসক ওমর আল বশিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আসিসি।

এবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত ও সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ হারজি হালেভির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানার শঙ্কায় দেখা দিয়েছে। এটি ঠেকানোর কৌশল বের করতেই বৈঠক করে ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তরফ থেকে পাওয়া যাবতীয় তথ্য এবং নানা ইঙ্গিতের ভিত্তিতে বলা যায়, দ্য হেগ শহরের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সম্ভাবত নেতানিয়াহু, গ্যালান্ত এবং হালেভির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হচ্ছে। ইসরায়েলের গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৩’-এর সংবাদে বলা হয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা টিজাচি হানেগবির সভাপতিত্বের অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীসহ নেতৃত্বের সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কূটনীতিক প্রচারণা এবং ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক পরিম-লের যোগাযোগ প্রসারের ওপর জোর দেওয়া হয়। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর ভাষ্য, নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিশ্বের নানাপ্রান্তের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপ বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং এ কাজে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত মার্কিন দূত মিখাইল হারজগকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। আইসিসির সম্ভাব্য পরোয়ানার প্রক্রিয়া যাতে আলোর মুখ না দেখে সেজন্য আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে আদালতের ওপর যাতে চাপ প্রয়োগ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে ইসরায়েল। সম্ভাব্য পরোয়ানা ইস্যুতে নেতানিয়াহু এরই মধ্যে নেদারল্যান্ডস, চেক প্রজাতন্ত্র এবং অস্ট্রিয়ার সমদায়িত্বশীল (কাউন্টারপার্ট) নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের সঙ্গে আলাপকালে আদালতের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার কথা উঠে আসে। ইসরায়েলের স্ট্রেটেজিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী রন ডার্মার, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাতে ইসরায়েলের পক্ষে জোরালোভাবে হস্তক্ষেপ করে, তা প্রত্যাশা করে তেলআবিব। নেতানিয়াহু আইসিসির পরোয়ানার মুখে পড়লে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মতো পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। উল্লেখ্য, ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধমূলক কর্মকা-ের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে পুতিন বহির্বিশ্বে সফর কাটছাঁট করেছেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত