পুঁজিবাজার নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়াতে একাধিক গ্রুপ!

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪১ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপের এবং অনলাইন মাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচার করে শেয়ারের দাম বাড়ায় একাধিক চক্র। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে এই অপকর্ম করে ও সরকারবিরোধী তৎপরতা চালায় বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে চাঁদাবাজি করে বলে ডিবি জানিয়েছে।

এই চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি সাংবাদিকদের পুঁজিবাজার নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত জানায়।

গ্রেপ্তার করা তিনজন হলেন মো. আমির হোসাইন ওরফে নুরনুরানী (৩৭), নুরুল হক হারুন (৫২) ও আব্দুল কাইয়ুম (৩৯)।

ডিবি বলছে, তারা আগে থেকেই সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। গ্রেপ্তার আমির হোসাইনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দমন আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনেসহ বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজার ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), কমিশনের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রুপ খুলে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করে আসছিল। এ ছাড়া, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যবহার করে আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আসছিল।

গতকাল শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। এর আগে গত শুক্রবার রাতে ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (দক্ষিণ) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সাইফুর রহমান আজাদের নেতৃত্বে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, পুঁজিবাজার স্পর্শকাতর জায়গা। অল্পতেই এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক থাকে। একটি স্বার্থান্বেষী চক্র মিথ্যা তথ্যে বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করে আসছিল এমন অভিযোগে বিএসইসি রমনা থানায় একটি মামলা করে। মামলা তদন্তের ধারাবাহিকতায় ডিবি তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

ডিবিপ্রধান বলেন, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামে গোপনীয় গ্রুপ ব্যবহার করে। এসব গ্রুপে শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে আসছিল। বিভিন্ন ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আগে-ভাগে প্রকাশ করে দেয়, যা বেশিরভাগ সময় বানোয়াট ও মিথ্যা। যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা বিভিন্ন সময় আন্দোলনের নামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যবহার করে রাস্তা দখল করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিভিন্ন ইস্যুতে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে সেসব কোম্পানি সম্পর্কে অনলাইনে অপপ্রচার শুরু করে। এমনকি কোম্পানির অফিসগুলোতেও হামলা করে। তারা বিভিন্ন শেয়ার নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দাম বৃদ্ধি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে। এসব করার জন্য গোপনীয় গ্রুপ ব্যবহার করে আসছিল। এসব গ্রুপের সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট ফি দিয়ে গ্রুপে যুক্ত হতে হয়। আবার শেয়ারে মুনাফা হলে লভ্যাংশের অংশ দিতে হয়। কিন্তু লোকসান হলে তারা দায়িত্ব নেয় না।

এ বিষয়ে ডিবির এডিসি সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, গ্রেপ্তার করা আমির হোসাইন ছদ্মনাম নুরনুরানী ব্যবহার করে গ্রুপগুলো পরিচালনা করতেন। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে সব মিলিয়ে ৮-১০টি গ্রুপ চালান তিনি। নুরুল হক হারুন বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সহসভাপতি পরিচয়ে সদস্যদের একত্র করে কোম্পানিগুলোতে চাঁদাবাজি করেন। আব্দুল কাইয়ুম রয়েল ক্যাপিটাল নামে ব্রোকারেজ হাউজের সঙ্গে যুক্ত। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম গ্রুপে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন শেয়ার সম্পর্কে তথ্য দিতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত