৫ বছরে চেয়ারম্যানের সম্পদ বেড়ে ২০ গুণ

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫০ এএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলামের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বার্ষিক আয় বেড়েছে ২২ গুণ। আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে তার আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার এসব তথ্য জানা গেছে।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে আমিরুল ইসলামের অর্থ ছিল চার লাখ টাকা। আরও ছিল ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের একটি প্রাইভেট কার, দেড় লাখ টাকার একটি মোটরসাইকেল, কয়েকটি ইলেকট্রনিকসামগ্রী (দাম উল্লেখ ছিল না) এবং পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৩১ একর কৃষিজমি। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে ছিল পাঁচ ভরি স্বর্ণ। ২০২৪ সালে এসে তার নিজের হাতে অর্থ আছে ২২ লাখ টাকা। আছে ৪৮ লাখ টাকা দামের একটি জিপ গাড়ি ও দেড় লাখ টাকার মোটরসাইকেল। ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে ২০ লাখ টাকার, আসবাব ৮ লাখ টাকার, কৃষিজমি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৩১ একর, অকৃষিজমি আছে ৮৮ লাখ টাকার, একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার, একটি টিনশেড বাড়ি ৪ লাখ টাকার, বিসিক শিল্প নগরীতে কারখানা রয়েছে, যার মূল্য ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে পাঁচ ভরি স্বর্ণের পাশাপাশি আছে ৮ লাখ টাকা। কোনো ঋণ নেই।

২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে আমিরুল ইসলামের শুধু ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ২০২৪ সালে এসে বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ২২ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে ১০ লাখ, আর ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মানী ও ভ্রমণ বিল বাবদ বার্ষিক আয় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার গাড়ি আর বিসিক শিল্প নগরীর ‘ইসলাম ইন্ডাস্ট্রিজ’ সম্পূর্ণ ব্যাংকঋণের ওপর চলে। আমার বিসিকসহ কয়েকটি ব্যাংকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ঋণ আছে। এ ছাড়া আমার গ্রামের বাড়িতে কৃষি, গরুর খামারসহ অন্যান্য ব্যবসা আছে। সেখান থেকেই আয় করি। এ ছাড়া আমার দুই ছেলে প্রতিষ্ঠিত এবং ভালো পদে চাকরি করে। তারা দুজনেই আমার ব্যবসা ও বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে।’

হলফনামায় ব্যাংকঋণের তথ্য উল্লেখ করেননি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খেলাপি না থাকলে মনে হয় এসব দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।’

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে এখন তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। আমিরুল ইসলাম ছাড়া বাকি দুজন হলেন সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মো. শাহনেওয়াজ প্রধান ও গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র রায়। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৮ মে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত