অস্থায়ী টোল প্লাজা করে চালু!

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৮ এএম

অস্থায়ী টোল প্লাজা করে প্রাথমিকভাবে চালু হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। আগামী মাসেই গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’। যদিও এই প্রকল্পের আওতায় ১৫টি র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তারপরও লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সরাসরি যাওয়া যাবে এবং পতেঙ্গা থেকে এসে টাইগারপাস মোড়ে নামার ব্যবস্থাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৪ নভেম্বর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় এত দিন তা চালু করা যায়নি। কবে নাগাদ গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী মাসের শেষ সপ্তাহে আমরা পতেঙ্গা থেকে উঠে টাইগারপাস নেমে যাওয়া এবং আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার হয়ে পতেঙ্গায় গিয়ে নামার পথটি চালু করে দিতে পারি। এ জন্য পতেঙ্গা অংশে অস্থায়ী টোল প্লাজাও বসানো হয়েছে। পরে র‌্যাম্পের নির্মাণকাজ শেষ হলে টোল স্টেশনগুলো র‌্যাম্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।’

র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ কবে শেষ হবেশ্ব জানতে চাইলে প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় ১৫টি র‌্যাম্প নির্মিত হবে। এগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সময় রয়েছে।’

গতকাল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশেই কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে রোড মার্কিং, সেফটি পার্কিং, গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পিডব্রেকার, বাঁক মার্কিং, বৈদ্যুতিক লাইন লাগানোসহ ফিনিশিংয়ের কাজ। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি অংশে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এই বাঁকগুলোতে চালক খেয়াল না করলে কিংবা সতর্ক না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবে। নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় ও কাঠঘর এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক দুটি খুবই মারাত্মক।

এসব অংশ নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে জানতে চাইলে প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এসব পয়েন্টে মার্কিং করে দেব। পুরো রোডের যেখানে বাঁক রয়েছে, সেই সব পয়েন্টে গাড়ির গতি যাতে কমানো হয়, সে জন্য স্পিডব্রেকার দেওয়া হবে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াসা মোড়ে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সঙ্গে মহিউদ্দিন চৌধুরী ফ্লাইওভারের সংযোগের কাজ শেষ। আর এতে বহদ্দারহাট থেকে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে কেউ উঠলে সে সহজেই ওয়াসা মোড়ে মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পয়েন্টে চলে যেতে পারবে। যেহেতু এলিভেটেডে চলাচল করতে হলে টোল দিতে হবে, তাই সে টোল কোথায় দেবে?

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবগুলো টোল বসবে র‌্যাম্পের মুখে; অর্থাৎ গাড়ি ওঠা ও নামার সময় টোল দিতে হবে। র‌্যাম্পগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর লাগবে।

টোলপ্লাজা বসবে কোথায় : সবচেয়ে বড় টোল স্টেশন বসবে ইপিজেড পয়েন্টে। লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সি বিচ, সিমেন্ট ক্রসিং, স্টিলমিল ও ইপিজেড পয়েন্টে যেসব গাড়ি নামবে এবং পতেঙ্গা থেকে আসার পথে যেসব গাড়ি সি বিচ, স্টিলমিলের নারিকেলতলা ও ইপিজেড থেকে উঠবে সেই সব গাড়ি টোল দেবে।

চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের পাশে নিমতলা বিশ্বরোড এলাকার র‌্যাম্পে টোল স্টেশন বসবে, মূলত যেসব গাড়ি নিমতলা থেকে উঠে লালখান বাজারের দিকে আসবে, সেগুলো টোল দেবে। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের র‌্যাম্পের ওপর একটি টোল স্টেশন বসবে, যারা এই পয়েন্ট থেকে এলিভেটেডে উঠবে, তারা টোল দেবে। আগ্রাবাদে একটি টোলপ্লাজা থাকবে, যারা লালখান বাজার থেকে উঠে কিংবা বহদ্দারহাট থেকে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার হয়ে আগ্রাবাদ নামবে, তারা টোল দেবে। ফকিরহাটে একটি টোলপ্লাজা বসবে, যারা আগ্রাবাদ কিংবা লালখান বাজার থেকে উঠে ফকিরহাট নামবে, তারা টোল দিয়ে নেমে যাবে।

টোল কত হবে : নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সি বিচ পর্যন্ত যেতে কার, জিপ, মাইক্রোবাসের জন্য ১০০, পিকআপ ১৫০, মিনিবাস ২০০, বাস ৩০০, চার চাকার ট্রাক ২০০, ৬ চাকার ট্রাক ৩০০ ও কাভার্ড ভ্যান ৫০০ টাকা হারে টোল দিতে হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে টোলের এই হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

কাজ বাকি ১৫ র‌্যাম্পের : ১৫টি র‌্যাম্পের মধ্যে একটি জিইসি মোড়ে। নগরীর লালখান বাজার ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির সামনে পতেঙ্গা থেকে এসে একটি র‌্যাম্প নামবে। টাইগারপাস মোড়ে নিউমার্কেট থেকে পতেঙ্গামুখী একটি র‌্যাম্প পলোগ্রাউন্ডের পাশ দিয়ে এসে এলিভেটেডে যুক্ত হবে এবং অপর র‌্যাম্পটি পতেঙ্গা থেকে এসে আমবাগান রোডের দিকে নামবে। নগরীর আগ্রাবাদ মোড়ে চারটি র‌্যাম্প হচ্ছে। টাইগারপাস থেকে পতেঙ্গার দিকে যেতে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে জাদুঘরের সামনে একটি নামবে এবং আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে থেকে উঠে জনতা ব্যাংক ও এবি ব্যাংক ভবনের মাঝ দিয়ে পতেঙ্গামুখী এলিভেটেডের সঙ্গে যুক্ত হবে। আবার পতেঙ্গা থেকে আসার পথে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের বেপারি পাড়া মোড়ের আগে নামবে এবং একই স্থান থেকে আরেকটি র‌্যাম্প উঠে টাইগারপাসের দিকে এলিভেটেডের সঙ্গে যুক্ত হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ফকিরহাট ২ ও ৩ নম্বর জেটির মধ্যবর্তী জায়গায় আগ্রাবাদ থেকে পতেঙ্গা যাওয়ার পথে নামার জন্য র‌্যাম্প থাকবে। নিমতলা বিশ^রোড মোড়ে পোর্ট কানেকটিং রোডের দিকে পতেঙ্গা থেকে আসতে একটি র‌্যাম্প নামবে এবং একই স্থান থেকে একটি উঠে আগ্রাবাদের দিকে আসা এলিভেটেডের সঙ্গে যুক্ত হবে। ইপিজেড মোড়ের আগে কাঁচাবাজারের সামনে আগ্রাবাদ থেকে পতেঙ্গার দিকে যাওয়ার পথে একটি র‌্যাম্প নামবে এবং ইপিেেজডর ভেতর থেকে একটি র‌্যাম্প আগ্রাবাদের দিকে আসা এলিভেটেডের সঙ্গে যুক্ত হবে। পতেঙ্গা বোট ক্লাবের দিকে যাওয়ার রুটে সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় আগ্রাবাদ থেকে পতেঙ্গা যেতে নামার জন্য র‌্যাম্প হচ্ছে একটি। এর একটু পরে নারিকেলতলা এলাকায় একটি র‌্যাম্প থাকবে, যা দিয়ে আগ্রাবাদমুখী এলিভেটেডে ওঠা যায়। আগ্রাবাদ থেকে পতেঙ্গার দিকে যাওয়ার পথে পতেঙ্গা স্টিলমিলস বাজারের ইস্টার্ন কেবলসের সামনে একটি র‌্যাম্প নামবে। এ ছাড়া প্রধান এলিভেটেড চলে যাবে কাটগড় হয়ে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষ হলে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু থেকে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার হয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত একটানা যাতায়াত করা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত