বৈধ কাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করাকে অপচয় বলে। দুনিয়াতে আল্লাহতায়ালা যা কিছু হালাল করে দিয়েছেন তা প্রয়োজনের তাগিদে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ভক্ষণ করতে হবে, তার বেশি গ্রহণ করা সমীচীন নয়। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পানাহার করা আবশ্যক। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ পানাহার বর্জন করে, ফলে মৃত্যুমুখের যাত্রী হলে বা দুর্বল হয়ে পড়লে, যাতে ফরজ কার্যাবলি সম্পাদন করতে অক্ষম হয় তাহলে সে পাপী হবে। আবার ক্ষুধা ও প্রয়োজনের চাহিদার বেশি পানাহার অপচয়ের মধ্যে গণ্য। অপচয় করা ইসলাম সমর্থন করে না। বরং আল্লাহতায়ালা অপচয় করতে নিষেধ করেছেন। অপচয় ছাড়া পানাহার বা স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে কোনো অপরাধ নেই। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ ৩১)
অপচয় ছাড়া সব কাজে মধ্যম পন্থা অবলম্বনের ব্যাপারে ইসলাম নির্দেশ প্রদান করেছে। অপচয় দারিদ্র্য আনে আর দারিদ্র্য মানুষকে কুফুরির দিকে ধাবিত করে। তাই অপচয় নয়, নয় কৃপণতা। যারা অপচয় এবং কৃপণতা করে না তাদের আল্লাহতায়ালা রহমানের বান্দা হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন। এদের গুণাবলির একটি হলো, ‘এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অযথা ব্যয় করে না। আর কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা এতদুভয়ের মধ্যবর্তী।’ (সুরা ফোরকান ৬৭)
অপচয় করা জায়েজ নেই। অপচয়কারী শয়তানের ভাই। আল্লাহতায়ালা অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই উল্লেখ করে অপচয় না করার জন্য নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা ইসরা ২৬-২৭)
আমাদের সমাজে দিন দিন অপচয়ের মাত্রা বাড়ছে। খাওয়াদাওয়া, সাজসজ্জা, বিয়েশাদি এমনকি ওয়াজ-মাহফিলেও অপচয় দৃশ্যমান। অনেকেই বিয়ে করতে বা ওয়াজে গমনে হেলিকপ্টারে চড়ে যেতে দ্বিধাবোধ করে না। অথচ আমাদের প্রতিবেশীরা অনাহারে অর্ধাহারে দিনরাত অতিবাহিত করছে। কাপড়বিহীন বা ছেঁড়া কাপড় পরে জীবনযাপন করে অতিষ্ঠ। এতে আমাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আসলে আমরা যদি আমাদের নিত্যদিনের চাহিদা মিটিয়ে মিতব্যয়ী হতে চেষ্টা করি, তাহলে আমাদের সমাজ হবে অপচয়বিহীন এক আদর্শ সমাজ। তাই আসুন, আমরা অপচয় রোধে সচেষ্ট হই। আল্লাহ আমাদের তওফিক দান করুন। আমিন।
