প্রায় ছয় মাস পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রাখার পর অবশেষে তা তুলে নিয়েছে ভারত। গতকাল শনিবার দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) এক বিজ্ঞপ্তিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার তথ্য জানিয়েছে। তবে প্রতি টন পেঁয়াজ ৫৫০ ডলার ন্যূনতম মূল্য বেঁধে দিয়েছে ডিজিএফটি। ন্যূনতম মূল্য কার্যকর হলে পেঁয়াজের আমদানি মূল্যই দাঁড়াবে প্রতি কেজি ৬০ টাকার বেশি, যেখানে এ দামে বর্তমানে দেশীয় পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।
তবে আমদানিকারকরা বলছেন, ভারত সরকার পেঁয়াজের আমদানি দাম যা-ই নির্ধারণ করুক না কেন তা দেশের বাজারে কার্যকর হবে না। উল্টো পেঁয়াজ আমদানির ফলে দেশের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকার নিচেই থাকবে বলে তারা দাবি করেন।
জানতে চাইলে রাজধানীর শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মাজেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রভাব এখনই বাজারে পড়ছে না। তবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পেঁয়াজের বাজারে এর একটা প্রভাব পড়তে শুরু করবে।
এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, ভারত সরকার যতই পেঁয়াজের আমদানি মূল্য বেঁধে দিক, তার প্রভাব আমাদের দেশের বাজারে পড়বে না। উল্টো সব খরচ ধরেও বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হবে। তবে এখনই বলা যাচ্ছে না প্রতি কেজি পেঁয়াজের কেনা দাম কত টাকা পড়বে। আর তা খুচরা বাজার পর্যন্ত গিয়ে কত টাকায় বিক্রি হবে। কিন্তু আশা করা যায়, ভারতের পেঁয়াজ আসতে শুরু করলে দেশের পেঁয়াজের দাম ভোক্তার নাগালের মধ্যে থাকবে।
এর আগে গত বছর ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। মুহূর্তেই দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। কিন্তু ভারত সরকারের পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রভাব এখনো দেশের পেঁয়াজের বাজারে পড়তে শুরু করেনি। উল্টো বাজারে দামের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গিয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আবার পাড়া-মহল্লার কোনো কোনো দোকানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে আমাদের হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার খবরে ইতিমধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এলসি খোলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। আগামী সোমবার নাগাদ দেশের বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রবেশ করবে বলে জানান হাকিমপুরের ওই ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেহেতু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারত, তাই পেঁয়াজ আমদানি শুরু করতে পেঁয়াজের আইপি নেওয়া ও এলসি খোলাসহ সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। শনিবার ব্যাংক ও অফিস বন্ধ থাকায় আইপি খোলা যাবে না, সেই সঙ্গে এলসি খোলাও সম্ভব হয়নি। তবে রবিবার অফিস ও ব্যাংক খুললে আইপি নেওয়া ও এলসি খোলা হবে। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হতে দুয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
