মির্জা আব্বাস বললেন

উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দেওয়া নতুন ফাঁদ

আপডেট : ০৫ মে ২০২৪, ০৪:১৪ এএম

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দেওয়া আরেকটা ফাঁদ। এই ফাঁদ পেতেছিলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে নেবেন। কিন্তু বিএনপি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারবে না, সেই নির্বাচনের প্রয়োজন বাংলাদেশে নেই।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশীদ হাবিবের মুক্তির দাবিতে ‘হাবিবুর রশীদ মুক্তি পরিষদ’ আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘৭ জানুয়ারি কি লোকজন ভোট দিতে গিয়েছিল? এবারও (উপজেলা নির্বাচনে) যাবে না। এই নির্বাচনে নিজেরাই নিজেদের প্রার্থীদের দাঁড়াতে দিচ্ছে না। বিএনপি দাঁড়ালে কী অবস্থা হতো! আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক আছে, সঠিক থাকবে। জনরোষের মুখে একদিন না একদিন এই সরকারের পতন ঘটবেই। গ্রেপ্তার করে বিশ্বে কোনো আন্দোলন থামানো গেছে বলে জানা নেই।’

খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য ‘যুদ্ধ করতে করতে মৃত্যুর পথে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন’ জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘তাকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে বলেছি। তার অবস্থা ভালো নয়। তারা (ক্ষমতাসীন দলের নেতারা) বলেন আইন নেই। আইন থাকবে না কেন? রাশেদ খান মেননকে বিদেশে পাঠানো হয় নাই, আ স ম আবদুর রবকে বিদেশে পাঠানো হয় নাই? আ স ম রবকে বন্দি অবস্থায় বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।’

‘সরকারকে উৎখাত করা’ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা তো সরকার দেখি না। এই সরকারকে উৎখাত করা বা রাখার দায়দায়িত্ব বিএনপি বহন করে না। জনগণ যখন মনে করবে, তখন লাঠি দিয়ে এই সরকারকে ফেলে দেবে।’

বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ একসঙ্গে চালাতে হবে। না হলে হাবিবুর রশীদের মতো অনেককে জেলে যেতে হবে। সুশাসন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সর্বশেষ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’ মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনায়েম মুন্না প্রমুখ।

এদিকে গতকাল সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ওলামা দলের নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে ভয় পায় বলেই আজকে ষড়যন্ত্রের কথা বলছে। এখানে ষড়যন্ত্রের প্রশ্ন আসছে কেন? বাম-ডান সবাই তো প্রকাশ্যে বলছে, আন্দোলনে একাত্ম হচ্ছে। কারণ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। জনগণ তো বলছে, ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে কোনো জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়নি।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, রফিকুল ইসলাম জামাল, ওলামা দলের সাবেক আহ্বায়ক মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, ওলামা দলের নতুন আহ্বায়ক মাওলানা কাজী মো. সেলিম রেজা, সদস্য সচিব মাওলানা আবুল হোসেন প্রমুখ।

এ ছাড়া গতকাল ধানম-ির তাকওয়া মসজিদে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীর জানাজায় অংশ নিয়ে রিজভী বিএনপির পক্ষ থেকে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম, মীর শরাফত আলী সপু প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত