সুরা আহকাফ পবিত্র কোরআনের ৪৬তম সুরা। এ সুরায় আল্লাহতায়ালা কোরআনের মহত্ত্বের বর্ণনা, শিরকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, পুনরুত্থান দিবস, আল্লাহর ন্যায়বিচার, শেষ নবী হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দ্বীনের পথে আহ্বানের বিস্তৃতি ও বিবর্জনীনতা, মুমিনদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা, দীনের পথে না আসার পরিপ্রেক্ষিতে কাফেরদের সতর্ককরণ এবং ধৈর্য প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
কোরআনের এই সুরায় আল্লাহর মহত্ত্বের বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘এই কিতাব (কোরআন) পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু আমি যথাযথভাবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছি। আর কাফেরদের যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।’
আলোচ্য সুরায় বলা হয়েছে, আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি নেই। সৃষ্টিজগতের যেমন সূচনা আছে তেমনি আছে পরিণতি। সৃষ্টি জগতের রয়েছে নির্দিষ্ট মেয়াদ। নির্দিষ্ট সময়ে এই জগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। এই সুরার ১৩ নম্বর আয়াতে সৎকর্মপরায়ণ মানুষের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না।’
বস্তুত ইমান ও নেক আমলের সব পর্যায়ের সংক্ষিপ্ত সার তুলে ধরা হয়েছে এই আয়াতে। কারণ বিশ্বাসের মূলনীতি হচ্ছে একত্মবাদ। আর একত্মবাদে অটল ও অবিচল থাকার ওপর তথা পালনকর্তা হিসেবে আল্লাহকে সব সময় মেনে চলার ওপরই নির্ভর করে ধৈর্য ও প্রতিরোধ, যা হচ্ছে সৎকাজের মূল চাবিকাঠি। অন্য কথায় প্রকৃত সৎকর্মশীল তারাই যারা বিশ্বাসের দিক থেকে একাত্মবাদের অনুসারী এবং কাজকর্মের দিক থেকে ধৈর্য ও প্রতিরোধের পথ অনুসরণ করেন।
তাই স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের মানুষ অতীতের কোনো বিষয়েই দুঃখ অনুভব করেন না এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও তাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। তারা জীবনে চলার পথে নানা বাধা-বিঘ্ন, কষ্ট কিংবা নানা ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতেও রুখে দাঁড়ান। আর তাদের এই মহতী গুণগুলো সব সময়ই অক্ষয় ও অম্লান থাকে। এসব ব্যক্তির পুরস্কার প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা এই সুরারই ১৪ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘তারাই জান্নাতের অধিকারী। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। তারা যে কর্ম করত, এটা তারই প্রতিফল।’ মোদ্দাকথা, মুমিন-মুসলমানদের এমন প্রতিফল পেতে হলে বর্ণিত পন্থায় পথ চলতে হবে। তবে মিলবে সাফল্য। আল্লাহতায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
