গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়ামে দু’দল মাঠে নেমেছিল না পারার হতাশা নিয়ে। গত সপ্তাহে স্বাগতিক আবাহনী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ঠিক আগের ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসের কাছে ২-১ গোলে হেরে শিরোপা রেস থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে। আর গেল মঙ্গলবার ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ পুলিশের হৃদয় ভেঙে দেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান।
দুঃস্মৃতি ভুলতে দু’দলই চেয়েছিল জিততে। জয়ের প্রশ্নে এগিয়ে ছিল আবাহনীই। ম্যাচের ১০ মিনিটে স্টুয়ার্ট কর্নেলিয়াসের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। সেই লিড নিয়েই মাঠ ছাড়ার লক্ষ্য ছিল। তবে ৮৭ মিনিটে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের অবিশ্বাস্য ভুলে জয় হাতছাড়া হয় আবাহনীর। পুলিশের বদলী ফরোয়ার্ড এম এস বাবলুর দূর থেকে নেওয়া একটি নির্বিষ শট সোহেলের গ্লাভস গলে দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়ায়।
সোহেল দেশের ফুটবলে অতি পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন জাতীয় দলে সার্ভিস দিয়েছেন। এখন ততটা নিয়মিত না হলেও জাতীয় দলে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকেন। তবে আবাহনীতে তার একাদশে খেলা পাকা। সেটা গেলো কয়েক বছর ধরেই। এবারও দলটিতে তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল বেশ ক’জন গোলরক্ষক আছেন। পাপ্পু হোসেন, সুলতান আহমেদ, আরিফুজ্জামান হিমেল, শামীম হোসেনদের অবশ্য সাইড বেঞ্চ গরম করতে হয় সোহেল স্বয়ংক্রিয় পছন্দ হওয়ায়। অথচ এই গোলকিপারের শিশুসূলভ সব ভুলে বহুবার ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশ ও আবাহনীকে। তারপরও শুধরানোর তাড়না নেই তার। আজ শুক্রবার যেভাবে গোল হজম করেছেন, তা দেখে যে কেউই তাকে পাড়া-মহল্লার অপেশাদার ফুটবলার বলে ফেলতেই পারেন।
অথচ ম্যাচটা জিতলে দুইয়ে থাকা মোহামেডানকে টপকে রানার্স-আ্প হওয়ার নতুন লক্ষ্য পূরণ আবাহনীর জন্য অনেকটা সহজ হতো। পয়েন্টের হিসেবেও ছুঁয়ে ফেলতে পারতো মোহামেডানকে। সেটা হতে দেননি সোহেল।
তাই ১৫ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনীকে তিনেই থাকতে হচ্ছে। শীর্ষে থাকা কিংসকে আর পেছনের ফেরার সুযোগ নেই তাদের। এক ম্যাচ কম খেলা মোহামেডানের চেয়েও দুই পয়েন্টে পিছিয়ে আবাহনী। সময়ই বলে দিবে আবাহনী পারবে কীনা রানার্স-আপ হতে। শেষ হতে না পারার দায় কিন্তু এড়াতে পারবেন না সোহেল। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পুলিশ চারে নিজেদের অবস্থান আরও সুরক্ষিত করেছে। সমান ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ২২।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল আবাহনীর। যার ফল তারা পেয়েছে নবম মিনিটে। ডান দিক থেকে এনামুল গাজীর ক্রস হেড করে ক্লিয়ার করতে গিয়ে কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্টের পায়ে তুলে দেন আজামত আব্দুলায়েভ। ডান পা দিয়ে বল নামিয়ে মাপা শটে পুলিশ কিপার আহসান হাবিব বিপুকে পরাস্ত করেন কর্নেলিয়াস। লিগে এটা তার ১২তম গোল। এই তালিকার শীর্ষে মোহামেডানের সুলামেন দিয়াবাতে (১৩ গোল)। বসুন্ধরা কিংসের ডরিয়েলটন গোমেজের গোল ১১টি। কর্নেলিয়াস পারতেন এই ম্যাচেই দিয়াবাতেকে ছুঁয়ে ফেলতে। ম্যাচের ২০ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ ওয়াশিংটন ব্রান্দাওয়ের কাটব্যাকে কর্নেলিয়াস ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে পারলে ব্যবধান দ্বিগুণ হতো আবাহনীর। ম্যাচের ৩১ মিনিটে এনামুল গাজীর কাটব্যাকে পোস্টের সামনে থেকে কর্নেলিয়াসের প্লেসিং বিপুল ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ওয়াশিংটনের সেট-আপ ভালো জায়গায় থেকেও পা ছোাঁয়াতে ব্যর্থ হন এনামুল গাজী। ফলে এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যেতে হয় আবাহনীকে।
বিরতি থেকে ফিরে পুলিশ খেলেছে অনেক গোঁছানো ফুটবলার এই অর্ধ্বে আবাহনীকে গুটিয়ে যেতে বাধ্য করে একের পর এক আক্রমণ গড়েছে পুলিশ। ম্যাচেরর ৫৬ ও ৫৮ মিনিটে বদলী বাবলু দু’টি সেরা সুযোগ নষ্ট না করলে তখনই সমতায় ফিরে পুলিশ। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে মাহাদি ইউসুফ খানের বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শট সাইড বার ঘেসে বাইরে গেলে ফের পুলিশকে হতাশ হতে হয়। ৭৫ মিনিটে অবশ্য ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল আবাহনীর। ডান দিক থেকে কর্নেলিয়াসের ক্রস বিপু সেভ না করলে বিপদ ঘটতে পারতো পুলিশের। জোনাথন একেবারে আনমার্কড দাঁড়িয়ে ছিলেন। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে রবিউলের মাপা ফ্রি-কিক পোস্টে প্রবেশের আগে ফিস্ট করে ক্লিয়ার করেন অপু। তবে ৮৭ মিনিটে সর্বনাশটা করে বসেন সোহেল। তার অবিশ্বাস্য ব্যর্থতায় জয় হাতছাড়া হয় আবাহনীর। বাবলুর বক্সের বেশ বাইরে থেকে দুর্বল শট অভিজ্ঞ আবাহনী কিপারের গ্লাভস গলে দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে প্রবেশ করে।
মুন্সিগঞ্জের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দিনের অন্য ম্যাচে রহমতগঞ্জের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। এই ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূণ্য। ৫৫ মিনিটে আর্নেস্ট বোয়াটেংয়ের গোলে এগিয়ে যায় রহমতগঞ্জ। সাত মিনিট পর রাসেলকে সমতা ফেরান ভজিস্লাভ বালবানোভিচ। পয়েন্ট টেবিলের নিচের সারিতে আছে এই দু’দল। তবে আপাদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে অবনমন ঝুকি কেটে গেছে তাদের। সাতে উঠে আসা রাসেলের সংগ্রহ ১৫ ম্যাচে ১৫। পরের ধাপে থাকা শেখ জামালেরও আছে সমান পয়েন্ট। নয়ে থাকা আর রহমতগঞ্জের ১১। তলানীর ব্রাদার্সের চেয়ে তারা ৫ পয়েন্টে এগিয়ে।
