আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় নবম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে ডিমলা থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত রবিবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট বাজার এলাকায় থেকে দুই কলেজ পড়ুয়া ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট এলাকার বাসিন্দা আদিল শাহরিয়ার(১৮) ও তার বন্ধু সদর ইউনিয়নের বাবুরহাট গ্রামের বাসিন্দা সাইদুজ্জামান সৈকত(১৯)। মামলার অপর আসামী প্রমিত(১৮) পলাতক রয়েছেন। তিনি বাবুরহাট বাজারের মন্দির পাড়ার বাসিন্দা কৈলাশের ছেলে।
মামলার সূত্র মতে, নবম শ্রেণি পড়ুয়া ওই ছাত্রী গত শনিবার(১১মে) বিকেলে উপজেলা হাসপাতাল সড়কে এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। ফেরার পথে মামলার আসামীরা পূর্বের পরিচিত থাকায় ছাত্রীকে পাশের একটি স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে আদিল ও তার বন্ধু প্রমিত শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানি করে ও সৈকত আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে প্রমিতের ফাকা বাড়িতে নিয়ে গণধর্ষণ করে। এমনকি মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে, কাউকে বললে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এদিকে রাতে বাড়ি ফিরে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে জ্ঞান ফিরলে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী পরিবারর কাছে ঘটনাটি জানায়।
মেয়ের বাবা তাৎক্ষনিক বিষয়টি থানায় জানিয়ে নিজে বাদী হয়ে রবিবার বিকেলে তিন জনের নাম উল্লেখ করে ডিমলা থানায় মামলা করেন।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, অভিযোগের অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে সোমবার দুপুরে নীলফামারী আদালতে নেয়া হয়। শুনানি শেষে তাদের বিকেলে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অপর আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী মেয়েটিতে সোমবার নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে মেডিকেল করা হয়। এতে গণধর্ষনের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।
