সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, জবি ছাত্রীর পাঁচ বছর কারাদন্ড

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৬:৪৫ এএম

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী তিথি সরকারকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তাকে এক বছরের জন্য প্রবেশনে রাখা হবে। গতকাল সোমবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াতের আদালত এ দন্ড দেয় বলে জানিয়েছেন রাষ্টপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম।

ওই ট্রাইব্যুনালের স্টেনোগ্রাফার মামুন শিকদার বলেন, আসামি তিথি সরকার দোষ স্বীকার করে প্রবেশনে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে এক বছরের জন্য প্রবেশনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। তিথি সরকারকে প্রবেশনে দেওয়ার আদেশে বলা হয়েছে, আসামি এক বছর প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকবেন। সামাজিক নিয়মকানুন, প্রথা ও রীতিনীতি মেনে চলবেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে আসছিলেন তিথি সরকার। পরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার বহিষ্কার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে তিথি সরকারকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এরপর তার পরিবার থেকে অভিযোগ করেন তিথি নিখোঁজ। ওই বছরের ৩১ অক্টোবর সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ের চারতলা থেকে তিথি সরকারকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে একটি মিথ্যা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা হয়। প্রকৃতপক্ষে সিআইডিতে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনার তদন্তে নেমে গুজব রটনাকারী নিরঞ্জন বড়াল নামের একজনকে রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিরঞ্জনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২ নভেম্বর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। ২০২১ সালের ১৯ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এসআই মেহেদী হাসান তাদের দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর তিথি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। তবে তার স্বামী শিপলু সরকারকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয় আদালত। মামলা চলাকালে আদালত সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে এ দন্ড দেয়।

প্রবেশন আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, পুরুষ আসামিরা মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত না হলে প্রবেশন পেতে পারেন। আর নারী আসামিরা মৃত্যুদণ্ড বাদে যেকোনো দণ্ডের ক্ষেত্রে পেতে পারেন প্রবেশন।

প্রবেশন দেওয়ার শর্তের মধ্যে সাধারণত মুক্তিযুদ্ধের বই পড়া, বৃক্ষরোপণ, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, মাদকবিরোধী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো আচরণ, বিনামূল্যে গান শেখানো, এতিমদের খাবার সরবরাহ, সৎভাবে জীবনযাপন ও মা-বাবার সেবা করার মতো কাজ করতে বলা হয়ে থাকে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত