‘অ্যাকুরেসি’ সঙ্গী করেই বিশ্বকাপে তানভির

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৬:৫৩ পিএম

ধান-নদী-খাল, এই তিনে বরিশাল। নদী বিধৌত এ প্রাকৃতিক অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিশেষজ্ঞ বোলারের মর্যাদা নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের বিমানে চড়তে যাচ্ছেন ২৭ বছর বয়সী তানভির।

কী সেই বিশেষত্ব তানভিরের বোলিংয়ে! সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে তারকায় ঠাসা আবাহনী ক্রীড়া চক্রের তাঁবুতে ছিলেন তানভির। ১৩ ম্যাচে ৯ উইকেট শিকারের পরিসংখ্যানটা খুব মনঃপুত না হলেও কাছ থেকে তাকে দেখেছেন দলটির ব্যাটিং কোচ এবং সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার রাজিন সালেহ। দেশ রূপান্তরকে বলেছেন তানভিরের বোলিংয়ে শক্তিমত্তার বিষয়টি, ‘তানভিরের শক্তির জায়গাটা হচ্ছে অ্যাকুরেসি খুব ভালো। সে যখন অনুশীলনের সময় নেটে বল করে, তাকে যখন যেখানে বল করতে বলা হয়, সেটা করতে পারে। তার বলে স্পিন খুব ভালো হয়, আর সেটাই ব্যাটসম্যানদের বিপদের কারণ হতে পারে।’

টি-টোয়েন্টিতে তানভির কতটা কার্যকর কিংবা বিপজ্জনক তার সবচেয়ে ভালো প্রমাণ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। ২০২৩ বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের শিরোপা জয়ে দুর্দান্ত অবদান ছিল তানভিরের। ওভারপ্রতি ৬.৯৫ রানের বিনিময়ে ১৭ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন তিনি। বিপিএলের পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ছিলেন চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। আবাহনী লিমিটেডের হয়ে ১৫ ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়েছিলেন ওভারপ্রতি মাত্র ৪.৬৫ রান দিয়ে। সবশেষ বিপিএলে রানার্স আপ কুমিল্লার হয়েও আলো ছড়িয়েছেন তানভির। ১৩ ম্যাচে নেন ১২ উইকেট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরে সাকিব আল হাসানের পর বাঁহাতি স্পিনে তাই তানভির ইসলামেই ভরসা রেখেছে জাতীয় দলের নির্বাচকমন্ডলী। আর এই তানভিরকে বলা যায় ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের ফসল। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের জাতীয় পর্যায়ে সেভাবে খেলেননি। ২০১৪ সালে ঢাকার প্রথম বিভাগ ক্রিকেট দিয়ে শুরু করে আস্তে আস্তে এগিয়েছেন। ২০১৭ সালে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট শুরু করেন খেলাঘর সমাজকল্যান সমিতির হয়ে। প্রথম মৌসুমেই ৪.১২ ইকোনমিতে ১১ ম্যাচে ২৮ উইকেট নিয়ে তাঁক লাগিয়ে দেন তানভির। সেই থেকে ছিলেন জাতীয় নির্বাচকদের দৃষ্টিতেও। 

২০১৮ সালে যখন এসিসি ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ খেলতে তাকে পাকিস্তানে পাঠানো হয়, তখনও খুব বেশি লোক তাকে চিনতেন না। পরের বছর দেশের মাঠেও লাল-সবুজ জার্সিতে ইমার্জিং এশিয়া কাপ খেলেন তিনি। ২০২১ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলেও জায়গা হয় তার। ২০২২ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে সফর করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে। বিপিএলে তার দলের তখনকার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস তার সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘তানভির এখন জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতেও প্রস্তুত।’ সেই শুভক্ষণ তানভিরের ক্যারিয়ারে আসে গত বছর।

২০২৩ সালের মার্চে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পড়ে তানভিরের। শেষ ম্যাচে দেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস তানভিরের মাথায় তুলে দেন জাতীয় দলের ক্যাপ। ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েও খেলেন একটি ম্যাচ। চার ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে উইকেট দুটি। আর সবমিলিয়ে ৬১ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে হাত ঘুরিয়ে নামের পাশে ৭৪টি উইকেট রয়েছে তানভিরের। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৬.৭৩। অভিজ্ঞতায় কিছুটা কাঁচা হলেও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নতুন বলে ব্যাটসম্যানদের ত্রাস হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তানভিরের। আর সেই শক্তিকে পুঁজি করেই সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার অভিযাত্রায় নামছেন তানভির ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত