মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ব্যাটারিচালিত রিকশা চলবে না ঢাকায় : কাদের

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ০৬:২৫ এএম

রাজধানী ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত বা যান্ত্রিক রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ঢাকায় চলাচল করা লক্কড়-ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবনে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় এই নির্দেশনা দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত কোনো গাড়ি যেন ঢাকা সিটিতে না চলে। আমরা ২২টি মহাসড়কে নিষিদ্ধ করেছি। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, চলতে যেন না পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বিদ্যুৎচালিত তিন চাকার যানগুলো অটো, ইজিবাইকসহ নানা নামে পরিচিত। দুর্ঘটনার জন্য সড়কে মোটরবাইক এবং ইজিবাইকের চলাচলকে দায়ী করেন তিনি।

কাদের বলেন, ‘দুর্ঘটনা নিয়ে নানা কথা আছে। আজ সৌদি আরবের কথা ধরেন, যদি আবুধাবিতে দুর্ঘটনায় দেড়শ থেকে দুইশ লোক মারা যায়, সেসব নিয়ে কিন্তু উচ্চবাচ্য সেসব দেশে হয় না। আমাদের এখানে ক্যাজুয়ালটি বেশি হচ্ছে। কারণ, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকের মতো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করছে।’

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘ইজিবাইকে ৮-১০ জন থাকে, বড় গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ইজিবাইকের সবাই শেষ। তখন ক্যাজুয়ালটি বেড়ে যায়। মোটরসাইকেলও এখন আরেক উপদ্রব।’

সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রও শহরের মধ্যে ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধের বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

এ ছাড়া সারা দেশে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি করতে নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটিতে মোটরসাইকেল অনেকটা নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছি। এখন মোটামুটি সবাই হেলমেট পরে। কিন্তু ঢাকার বাইরেও একটা পলিসি নেওয়া দরকার।’

‘নো হেলমেট, নো ফুয়েল’ নীতিতে চলতে হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ডিসি, এসপিদের জানাতে হবে, যদি মোটরসাইকেল চালকদের কাউকে হেলমেটবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে তাদের জ্বালানি দেওয়া হবে না। পুরো বাংলাদেশে এই নিয়ম জারি করতে হবে। 

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের আগে ও পরে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এগুলো মন্ত্রী নয়, মানুষ হিসেবে আমাদের কষ্ট দেয়। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রধান কারণ মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। এক অটোরিকশায় ৭ থেকে ৮ জন থাকে। একটা দুর্ঘটনা হলে অটোরিকশার সবাই মারা যায়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্ঘটনা হলে তো কাউকে কেউ কিছু বলে না। শুনতে হয় আমাকে। কেউ বলে না বিআরটিএ চেয়ারম্যান কী করছে, সবাই আমাকে বলে।’

তিনি বলেন, সমতল থেকে পাহাড়ে আজ সুন্দর সুন্দর রাস্তা, এত রাস্তা হওয়ার পরও শৃঙ্খলা আসে না। এত কিছু করে কী লাভ, কোনো ফলাফল আসছে না। এত রাস্তা, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, টানেল করা হচ্ছে কিন্তু যানজট বা দুর্ঘটনা কমছে না।

এ সময় ঝালকাঠিতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৪০ বছরের পুরনো গাড়ি কীভাবে সড়কে চলে। ঢাকা শহরের লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িগুলো গরিব গরিব চেহারার। ঢাকার চেয়ে গ্রামের গাড়িগুলো ভালো। এতদিন কী করছিল বিআরটিএ জানতে চান তিনি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান মেয়াদোত্তীর্ণ ও লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িগুলোকে ডাম্পিং নয়, সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসের সুপারিশ করেন।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, সড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত