এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত চলছে সুদানের সেনা ও আধা সামরিক বাহিনীর মধ্যে। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির এবং ২০২১ সালে বেসামরিক সরকার উৎখাতে একসঙ্গে কাজ করা দুটি সামরিক বাহিনী নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত আছে সেখানে। এর মধ্যে একটি জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন দেশটির মূল সামরিক বাহিনী। অন্যটি মোহামেদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বাধীন আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ। তাদের সংঘাতে মারাত্মক সংকটে পড়েছে সে দেশের মানুষ। দেশটিতে ৯০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। নিহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সব মিলিয়ে সুদানের পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক দিক থেকে সুদানের অবস্থা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রবল আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে দেশটি। সংস্থাটির এক মুখপাত্র সম্প্রতি বলেছেন, সুদান এখন দুর্ভিক্ষের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
গত বুধবার জাতিসংঘের প্রতিনিধি ক্লেমেন্টাইন কোয়েটা-সালামি বলেছেন, সুদান এখন ভয়ংকর সহিংসতার আগ্নেয়গিরির মুখে পড়ে গেছে। লড়াই শেষ হওয়ার কোনো সংকেত নেই। আর এই লড়াইয়ে ভয়ংকর বাড়াবাড়ি হচ্ছে। ধর্ষণ, অত্যাচার ও জাতিগত সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। সহিংসতার জন্য ত্রাণ দেওয়া যাচ্ছে না।
জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, দেশটিতে ৪০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছেন। তাদের কাছে ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সেনা ও আধা সামরিক বাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া লড়াই পুরো দেশেই ছড়িয়ে গেছে। তবে পশ্চিম দারফুরে ভয়ংকর লড়াই হচ্ছে। ক্লেমেন্টাইন জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে এল ফাশারে প্রবল সংঘর্ষ হয়েছে। প্রচুর মানুষ মারা গেছেন, অনেকে ঘরছাড়া হয়েছেন। সামনে বর্ষা আসছে। তখন যাতায়াতে আরও অসুবিধা হবে। আর কৃষকদের কাছে বীজ পৌঁছে দিতে না পারলে তারা চায করতে পারবেন না।
তিনি জানান, পোর্ট সুদান থেকে ট্রাকে করে ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী গত ৩ এপ্রিল পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তা এখনো এল ফিশারে পৌঁছাতে পারেনি।
সুদানের জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মানুষ মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ করা সংস্থা আইপিসি।
দেশটিতে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন নারী ও মেয়েরা। এছাড়া যুদ্ধের কারণে প্রায় দুই কোটি শিশুর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, প্রায় এক কোটি শিশু গত এক বছরে যুদ্ধ হচ্ছে এমন এলাকায় বাস করেছে। চলতি বছর সুদানের জন্য ২৭০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে ত্রাণ সংস্থাগুলো। তবে এখন পর্যন্ত ছয় শতাংশের কম সহায়তা পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে শিগগিরই সংঘাত বন্ধ না হলে সুদানের মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
