ভোটের মাঠে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দুই প্রার্থী

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ০৫:০৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই প্রার্থীই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা আইনমন্ত্রী আনিসুল হকেরও ঘনিষ্ঠজন। একজন তার ফুপাতো ভাই, আরেকজন সাবেক এপিএস। ভোটের মাঠে বিভক্ত হয়ে তাদের পক্ষে প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে জড়িয়ে পড়ছেন বাকযুদ্ধে।

এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস ছিলেন।

রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কুটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাইদুর রহমান স্বপন। ১৯৬৮ সাল থেকে ছাত্রলীগের মাধ্যমে তার রাজনীতির শুরু। তিনি আইনমন্ত্রীর ফুপাতো ভাই। তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি দলের একটি অংশ ভালোভাবে নেয়নি।

সাইদুর রহমান স্বপন বলেন, রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া মন্ত্রীর স্বজন বলে আমার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। প্রার্থী হিসেবে স্বজনের ব্যাখ্যা বুছে কথা বলা উচিত ছিল তার। আমার কর্মী-সমর্থকদেরও হুমিকি-ধমকি দিচ্ছেন। তার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। ১০ বছর আইনমন্ত্রীর এপিএস হিসেবে ছিলেন রাশেদুল। মন্ত্রীর সঙ্গে দলের নেতাকর্মীর মধ্যে বিভেদের দেয়াল সৃষ্টি করে রেখেছেন। আমি সেই দেয়াল ভেঙে দেব।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাশেদুল কাওসার। তিনি বলেন, ১০ বছর আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। তার নির্দেশে ইতিবাচক কাজ করেছেন। দালের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি বা কাউকে নির্যাতনের প্রশ্নই আসে না। নির্বাচনের অংশ নেওয়ায় প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে বিষেদগার করছেন।

মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এ দুই জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ২১ মে কসবা উপজেলা নির্বাচনে কাউকেই মনোনয়ন বা সমর্থন দেয়নি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। তবে শেষ মুহূর্তে দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়ে মাঠে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। ১০ ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে ৮ জন প্রকাশ্যে সাইদুর রহমান স্বপনের পক্ষ নিয়ে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। পৌর মেয়র এম জি হাক্কানিও রয়েছেন এ দলে। অপর দুই চেয়ারম্যানসহ দলের একটি অংশ কাজ করছে রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়ার পক্ষে। প্রতিদিন নির্বাচন অফিসে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আসছে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে। ইতোমধ্যে এক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অমিত কুমার দাশকে মুন্সীগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তার পদে এসেছেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।

নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চাচা-ভাতিজা। বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মনির হোসেনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তার চাচা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কসবা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম। একই বাড়ির দুই প্রার্থী হলেও তাদের মধ্যে তিন যুগের বিরোধ রয়েছে। রয়েছে বহু মামলা। তবে জয়ের ব্যাপারে চাচ-ভাতিজা দু’জনই আশাবাদী। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সাইদা সারমিন শুক্রিয়া। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন শাহিন সুলতানা।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সুজনের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রুহুল আমিন টিটু বলেন, দুই প্রার্থীই মন্ত্রীর স্বজন। দু’জনেরই এলাকায় প্রভাব রয়েছে। কাজেই যিনি কেন্দ্রে ভোটার উপিস্থিত বাড়াতে পারবেন তিনি ভালো করবেন।

সহকারী রিটার্নিং ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে সব আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার (১৭ মে) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কসবা উপজেলা মডেল মসজিদে নামাজ শেষে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, জনগণ যাকে পছন্দ করবে, যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে তার সাথেই আমি কাজ করব। নির্বাচনে আমার কোনো ইঙ্গিত নাই, নির্দেশ নাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত