কাঁচামাল সংকটে টানা ২২ দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)। এটি দেশের একমাত্র ডিএপি সার উৎপাদনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। এই সার উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক এসিড সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই অবস্থা চলছে। গত ২৮ জুন সকাল থেকে এই কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
কারখানাটি দেশের কৃষিখাতে ব্যবহৃত ডিএপি সার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে সার সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক এসিড আমদানির জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড সরবরাহে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে। এতে কার্যাদেশ পায় মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী জুন মাসের মধ্যেই কাঁচামাল সরবরাহের কথা ছিল।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এতে জর্ডানসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ফসফরিক এসিড আমদানি করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাঁচামাল না পৌঁছায় উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
কারখানা আরও সূত্র জানায়, কাঁচামাল সংকট কাটাতে বিসিআইসি গত ৮ জুন ও ২৩ জুন নতুন করে দুটি দরপত্র আহ্বান করে। তবে এতে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি বলে কারখানা সূত্র জানিয়েছে। পরে আবার দুটি নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর একটি আগামী ৮ আগস্ট এবং অন্যটি ৯ সেপ্টেম্বর খোলা হবে।
ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মঈনুল হক বলেন, কারখানা চালু রাখতে দৈনিক ৬০০ মেট্রিকটন ফসফরিক এসিডের প্রয়োজন হয়। কারখানায় ২০ হাজার মেট্রিকটন মজুদ রাখার সক্ষমতা রয়েছে। পরে নির্দিষ্ট মজুদ শেষ হওয়ার কারণে ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানার প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।
কারখানার এমডি আরও জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ নির্ধারিত সময়ে ফসফরিক এসিড সরবরাহ করতে পারেনি। তবে তাদের সঙ্গে চুক্তি এখনো বাতিল হয়নি। ফসফরিক এসিড সরবরাহ নিশ্চিত হলেই সার উৎপাদনও পুনরায় শুরু হবে।
‘কৃষক দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান চালিকাশক্তি’