বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছুটির পর বিদ্যালয়ের টয়লেটে আটকা ছিল শিশু

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ০৬:৪৬ পিএম

ক্লাস ছুটির পর সবাই বাড়ি গেলেও বিদ্যালয়ের টয়লেটে আটকা পড়ায় ফিরতে পারেনি প্রথম শ্রেণির এক ছাত্র। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা টয়লেটের দরজা ধাক্কাধাক্কি করার পর অবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় বের হয় ওই শিশু। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৯নং পাঁচখোলা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ছাত্রের পরিবার সূত্রে জানা যায়,পাঁচখোলা এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে রাফিন। সে ৯নং পাঁচখোলা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিরর একজন ছাত্র। প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার স্কুলে গিয়েছিলেন রাফিন। তখন তাদের পরীক্ষা চলতেছিল। পরীক্ষা শেষে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর টয়লেটে যায়। পরে দপ্তরি খোকন খান বাথরুম চেক না করেই বাহির থেকে রশি দিয়ে আটকিয়ে দেন। পরে শিশুটি দরজাটি খোলার জন্য ডাক চিৎকার করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। 

এ সময় বারবার দরজা খোলার চিৎকার করায় শিশুটির গলা ও মুখ রক্তাক্ত হয়ে যায়। পরে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর শিশুটি দরজা ধাক্কাধাক্কি করলে একপর্যায়ে টয়লেটের দরজাটি খুলতে সক্ষম হয়। এদিকে ছুটির পর শিশুটি বাসায় না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন ছাত্র ও আত্মীয়ের বাড়িতে খুঁজতে থাকেন।

এদিকে সন্ধ্যা ৬টার পর বিদ্যালয়ের তিনতলা থেকে একটি মুদি দোকানদারকে বিদ্যালয়ের কেচি গেট খোলার জন্য ডাকতে থাকে শিশুটি। পরে কয়েকজন মিলে শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ‘ছাত্র নিবাসে’ (স্থানীয় এতিমখানার চিকিৎসালয়) নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী এ ঘটনাকে ১৯৮০ সালের শিশুতোষ চলচ্চিত্র ছুটির ঘণ্টার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ৬ ঘণ্টা পর স্কুলের টয়লেট থেকে জীবিত উদ্ধার হলো ছাত্রটি। আর কিছু সময় হলেই ছুটির ঘণ্টা বেজে যেত শিশুটির।

এ ঘটনার পরে আজ বিকেলে সরেজমিনে ওই ‘ছাত্র নিবাসে’ গেলে সে তার ভাষায় গতকালের ঘটনা বোঝানোর চেষ্টা করলেও ‘ছাত্র নিবাসে’র পরিচালক বাতেন খান শিশুটির সাথে কথা বলতে বাধা প্রধান করেন। এ কারণে শিশুটির বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

দোকানদার রহমান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টয়লেটের আটকা পড়ে ছিল শিশুটি। কোনো মতে দরজা খুলে তিন তালার বেলকনি থেকে আমাদের ডাক দেয় পরে আমরা তাকে গিয়ে উদ্ধার করি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বেগম বলেন, ওই দিন আমি একটা মিটিংয়ে ছিলাম। বের হবার আগ পর্যন্ত এমন কিছু নজরে পড়েনি। আমি পরে জানতে পেরেছি। বিষয়টির সাথে কে জড়িত রয়েছে তদন্ত করা হবে।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত